দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আরও আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি সিলেটে আরও ২ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এতে করে হামের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ১৯৬ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক হাজার ৩১৯ শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
আজ রবিবার (১৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম এবং সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ৬৫ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে এক হাজার ২৫৪ শিশু।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে এক হাজার ৯২ শিশু এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১৯৬ জনে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ২৩ হাজার ১২২ জন। এ পর্যন্ত মোট এক লাখ ৮৯ হাজার ৪৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে এক লাখ ৮১ হাজার ৭৫৬ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সিলেট বিভাগের পরিস্থিতি
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা হলো— হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ৯ মাস ২২ দিন বয়সি শিশু পারভেজ এবং সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ বছর ৬ মাস বয়সি শিশু সাদিয়া। এ নিয়ে সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মোট ১৯৫ জনের মৃত্যু হলো, যার মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে নতুন করে কারও শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত না হলেও ১১১ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১ হাজার ১১৫ জনের হামের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৪৪২ জন, সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং হবিগঞ্জে ১৫৮ জন (২ জন রুবেলাসহ) রয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৭ জন সন্দেহজনক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭২ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৬৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৪৪ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৩ জন ভর্তি আছেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেলে কাটছে না হামের প্রকোপ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালটিতে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯-এ। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে আরও ৫৪ জন শিশুকে। বর্তমানে এর আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা মোট ১৩৮ জন।
এই তথ্যাদি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান।
তিনি জানান, “নান্দাইল থেকে আসা সাড়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। অন্য শিশুদের সাথে তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ভর্তির এক দিন পর শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। হামের উপসর্গের পাশাপাশি শক, তীব্র নিউমোনিয়া ও হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতার কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।”
চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে শুরু করে ১৮ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত হিসাব বিশ্লেষণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সময়ে মোট ৫ হাজার ২২২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এর মাঝে কেবল গত একদিনেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছে ২১ জন। সার্বিকভাবে এখন পর্যন্ত সুস্থতার ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫ হাজার ৫ জন শিশু।
শিশুদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিতের বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, তিনটি আলাদা মেডিকেল টিম গঠন করে বর্তমানে এই কার্যক্রম সচল রাখা হয়েছে।
পড়ুন : অন্যায় ও অসততা পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: রাষ্ট্রপতি
সা/


