ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়েই গড়তে হবে আগামীর বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই নাগরিকেরা ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা আদায়ের লড়াইয়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। আর সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কখনো কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণঅভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গঠনে দলীয় বা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

এ দেশের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে যেভাবে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে, আগামী হাজার বছরও যেন সবাই একইভাবে একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে—সেটাই যেন সবার সম্মিলিত প্রত্যাশা হয়।

এর আগে রাতে প্রথমে মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

পড়ুন : ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন