ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আধিপত্য বিস্তার করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। দুজন মিলে জিতেছেন ১৩টি ব্যালন ডি’অর। বর্তমানে দুজনই এই পুরস্কারের নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে থাকলেও কে সর্বকালের সেরা, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিতর্ক এখনো থামেনি। এবার ব্যালন ডি’অরের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মের একটি বিশেষ ভোটাভুটিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই দুই মহাতারকার ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভোটে এখন পর্যন্ত মেসির চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন রোনালদো।
সর্বকালের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ীর সেরা মৌসুম নির্বাচন করতে ১০ জন কিংবদন্তি ফুটবলারকে নিয়ে এই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া ভোটাভুটি চলবে আগামী ২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে এখানে কোনো একজন ফুটবলারকে সর্বকালের সেরা ঘোষণা করা হবে না। বরং অন্তত দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, এমন ১০ জন খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী মৌসুমগুলোর মধ্যে সেরা মৌসুমটি বেছে নেওয়া হবে।
ভোটের বর্তমান হিসাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। ওই বছর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। ওই বছর অসাধারণ গোল করার রেকর্ড গড়ে ফুটবল বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এক পঞ্জিকাবর্ষে ৬৯ ম্যাচ খেলে ৯১ গোল করেছিলেন তিনি। সেই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েন মেসি।
ভোটের তালিকায় মেসির ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম রয়েছে পরের অবস্থানে। এই মৌসুম পেয়েছে ৯ শতাংশ ভোট। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর হয়ে এক মৌসুমে ৪১ ম্যাচ খেলে ২১ গোল ও ২০টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন মেসি। সেই সময় লিগ ওয়ান ও ফরাসি সুপার কাপও জিতেছিলেন তিনি।ক
ভোটাভুটিতে রোনালদো ও মেসি ছাড়াও জায়গা পেয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের আরও আট কিংবদন্তি। তাঁরা হলেন রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেদো দি স্তেফানো।
ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। নেদারল্যান্ডসের মার্কো ফন বাস্তেন এই পুরস্কার জেতেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে। ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি এবং নেদারল্যান্ডসের ইয়োহান ক্রুইফও তিনবার করে ব্যালন ডি’অর জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁদের সেরা মৌসুম নিয়েও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে।
বর্তমান ভোটের হিসাবে রোনালদোর ২০০৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম ৭ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তাঁর ২০১৬ সালের পুরস্কারজয়ী মৌসুম পেয়েছে ২ শতাংশ ভোট।
এই ভোটাভুটির অন্যতম আলোচিত দিক হলো, অংশ নিতে প্রত্যেক ভোটারকে এক ইউরো খরচ করতে হবে। ভোটাররা চাইলে একই ব্যালন ডি’অরজয়ীকে একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন। পাশাপাশি প্রত্যেক প্রার্থী কত শতাংশ ভোট পেয়েছেন, তা-ও দেখতে পারবেন।
এ ছাড়া লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত একজন ভোটারকে চলতি বছরের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের জন্য দুটি টিকিট দেওয়া হবে। ভোটে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ট্রফির একটি আইকনিক ছবি ডাউনলোড করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
২৭ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এই ভোটাভুটি। শেষ পর্যন্ত কোন কিংবদন্তির কোন মৌসুম সবচেয়ে বেশি ভোট পায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বর্তমান হিসাবে ৬২ শতাংশ ভোট নিয়ে রোনালদোর ২০০৮ সালের মৌসুম অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে মেসির ২০১২ ও ২০২৩ সালের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ভোটের হিসাবে এখনো পিছিয়ে। এতে আবারও ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায় উঠে এসেছে মেসি-রোনালদোর দীর্ঘদিনের শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক।
পড়ুন:এমবাপ্পের জোড়া গোল ও গুলারের জাদুতে সেভিয়াকে উড়িয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ
ইমি/


