সৌদিতে মৃত্যুদন্ড: স্বামী-স্ত্রী নন নজরুল-সুইটি, ফেসবুকে ছড়াচ্ছে ভুয়া তথ্য

সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই প্রবাসী বাংলাদেশী যুবক ও যুবতীকে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোষ্ট ছড়ানো হচ্ছে। তারা দম্পতি নয় বলে নিশ্চিত করেছেন মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া যুবক নজরুল ইসলামের বাবা। নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুনতানপুর ইউনিয়নেট বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

আব্দুল বাছির জানান, তাকে কলেজে পড়ানো অবস্থায় পাঠানো হয়েছে পরিবারের হাল ধরতে। সে বিয়ে করলো কখন? ওই মেয়ে নজরুলের স্ত্রী না, তাকে আমরা চিনিও না। শুনেছি একই জাগায় কাজ করতো। তাদের লাশ দেশে আসার তথ্যও ঠিক না।

তিনি জানান, তাকে বিদেশে পাঠানোর পর মাত্র ৬ মাস কাজ করতে পেরেছে। এরপর থেকে টানা ৩ বছর ৩ মাস ধরে জেলে ছিল। আমার ছেলে কি কারণে জেলে ছিল তা আমিও এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেখতে পেলাম। নজরুলের মৃত্যুদন্ডের খবর শুনে তার আপন ফুফু আবেদা বেগম বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরও জানান,, আমার ছেলেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ করে পরিবারের হাল ধরতে প্রবাসে পাঠিয়েছিলাম। এরমধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। ঋণদাররাও আমাকে চাপ দিচ্ছে। আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলেকে যদি বিনাকারণে মৃত্যুদন্ড দিয়ে থাকে, এর বিচার আমি চাই।

স্বজনেরা জানান, পরিবারের সুখ আর একটু স্বাচ্ছন্দের আশায় ২০২২ সালের ১০ই নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম (২৫)। সেখানে যাওয়ার ৬ মাসের মাথায় মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক যুবতীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ এনে দুইজনকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। নজরুল গ্রেপ্তারের পর খবর তখন জেনেছিল পরিবার, কিন্তু কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা তারা জানতেন না। পরের তিন বছর তিন মাস জেলে বন্দি থাকার পর, গত বুধবার নজরুল ইসলাম এবং সুইটি আক্তার নামে দুই যুবক যুবতীর মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে দেশটি সরকার।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড খবর পাওয়ার পর থেকে গ্রামবাসী তাদের বাড়িতে নিয়মিত আসা যাওয়া করছেন। তাদের পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। জানাচ্ছেন সমাবেদনা।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সিনিয়র সহসভাপতি গাজী নিয়াজুল করিম বলেন, নজরুলকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এমন কোন অপরাধ সে করেছে বলে মনে করছি না। সরকারের কাছে আবেদন, সে দেশের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য উদঘাটন করা হোক। এখন পর্যন্ত যা দেখছি বাংলাদেশ দূতাবাসের যথেষ্ট অবহেলা রয়েছে। তারা যদি যোগাযোগ কতো তাহলে এই পরিস্থিতি হতো না। কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কার এক নাগরিকের এমন সাজা হয়েছিল, কিন্তু তাদের দেশের দূতাবাস ব্যবস্থা নিয়ে তার নাগরিককে দেশে নিয়ে গিয়েছিল। এখন পর্যন্ত তার পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করেনি কেউ।

গ্রামের বাসিন্দা রাহাত ও মাইনুদ্দিন দাবি করেন, সৌদি আরব সরকার কট্টরনীতি থেকে উদারনীতিতে এসে সিনেমা হল সহ অনেক কিছুই উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে আইনের ও কট্টরনীতি থেকে রক্ষন নীতিতে এসে কিছুটা সংশোধন করারও প্রয়োজন বলে মনেকরেন তারা। এছাড়া আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে নজরুলের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। পরিবারের উপার্জন ক্ষম দরিদ্র কৃষক পরিবারের নজরুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দুই দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তারা।

পড়ুন:খালিয়াজুরীতে আদালতের রায় অমান্য করে ব্যবসায়ীর জমি দখল

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন