রামেকে ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে চরম বিপর্যয়

চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট নিরসন এবং চিকিৎসকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ ৫ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের ফলে পুরো হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

সরাসরি প্রভাবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে চিকিৎসাধীন রোগীদের দুর্ভোগ যেমন চরম আকার ধারণ করেছে, তেমনি সেবা না পেয়ে রোগী মৃত্যুরও অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেবা বন্ধ করে দেওয়ায় মূল ওয়ার্ডগুলোতে জরুরি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। এতে রাজশাহী ও আশপাশের উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শত শত মুমূর্ষু রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

সময়মতো ওষুধ না পাওয়া, অন-কল ডাক্তারদের অনুপস্থিতি এবং জরুরি বিভাগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং জরুরি চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকট চলছে।

ওয়ার্ডে রোগীদের স্বজনদের অবাধ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
নিরাপত্তায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের গাফিলতির কারণে চিকিৎসকদের নিয়মিত উগ্র আচরণের শিকার ও সংঘবদ্ধ হুমকির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, এসব মৌলিক সমস্যা সমাধানের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও তারা কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেননি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা ২৪ ঘণ্টার এই কঠোর কর্মসূচির পথ বেছে নিয়েছেন।

উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি, দাবিসমূহ এবং আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে আজ বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আহ্বান করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. এস এম তপু।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের আকুল আবেদন—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা হোক।

হাসপাতালে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে অকাল মৃত্যু রোধের জন্য জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

পড়ুন:আলজেরিয়া থেকে এলএনজি-এলপিজি আমদানি করবে বাংলাদেশ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন