চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে মাছ চাষের নামে ঝিল তৈরির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। প্রায় ৪০০ একর জমিতে ৬০ থেকে ৭০টি ঝিল তৈরি করে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে থাকা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে ঝিল তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষের আড়ালে এসব জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হয়েছে। এতে জমির স্বাভাবিক গঠন ও উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ব্যবহারের উপযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জমি দখল ও মালিকানা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় জমির মালিকরা।
অভিযোগ রয়েছে, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় কৃষিজমির মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। জমির মাটি কাটায় বাধা দিতে গিয়ে কয়েকজন মালিক হুমকি ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফল পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
আজ (২২-১০-২০২৬) রোজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে ঝিল তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়। অভিযানের মাধ্যমে কৃষিজমি রক্ষা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমার ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও ওই এলাকায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দুর্গম চরাঞ্চল ও নদীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট চক্র আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযান শেষে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, কৃষিজমি ও সরকারি খাসজমি দখল করে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, কৃষিজমির মাটি কাটা ও জমি দখল বন্ধে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি খাসজমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি নষ্ট হলে দীর্ঘমেয়াদে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ইব্রাহীমপুরের কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য সরকারি জমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পড়ুন: সমমনা ৭ দল নিয়ে নতুন ইসলামী জোট ঘোষণা


