দিনাজপুর ধান-চাউল ব্যবসায়ী গ্রুপের আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে মোশাররফ হোসেন-আনোয়ার হোসেন প্যানেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে প্যানেলের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য হাসিবউদ্দীন আহম্মেদ (হাশিম)।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে একতরফা শুনানির প্রতিবাদে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের জন্য এক মাস নির্বাচন পেছানোর আবেদন প্রশাসক অগ্রাহ্য করায় আগামী ২৪ অক্টোবরের নির্বাচন থেকে তারা সরে দাঁড়ালেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত মেয়াদে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদেকুল ইসলাম নির্বাচিত হয়ে সভাপতির অনুমতি ও নির্বাহী পরিষদকে উপেক্ষা করে অনিয়ম, অপচয়, জালিয়াতি, তসরুপসহ স্বৈরাচারী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সভাপতির অনুমতি ছাড়াই নিজের স্বার্থে তার মনমতো ১৬ জন নতুন সদস্য ভর্তি করান, যা সাংগঠনিকভাবে অনিয়ম।
এ নিয়ে সংগঠনের কিছু সদস্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য সংগঠনে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দিনাজপুর জেলা প্রশাসককে তদন্তের আদেশ দেয়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের ২২ মে বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা মোতাবেক বর্তমান নির্বাহী কমিটি বাতিল করে সরকারের অনুমোদনক্রমে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কে প্রশাসক নিয়োগ করেন এবং ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করতে না পারায় পরে দিনাজপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আরও ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার আদেশ দেওয়া হয়।
প্রশাসক যথাসময়ে নির্বাচন শেষ করতে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড নিয়োগ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করেন। এরপর মো. মোশাররফ হোসেন-আনোয়ার হোসেন এবং মোকাদ্দেসুর রহমান-মো. সাদেকুল ইসলাম দুটি প্যানেল মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
মনোনয়নপত্র বাছাইকালে মোশাররফ হোসেন প্যানেল আপত্তি জানায়। বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা ২০২৫ এর বিধি ১৮ (০৪) মোতাবেক মো. সাদেকুল ইসলামসহ মোট ৪ জন প্রার্থীকে অবৈধ ঘোষণা করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন বোর্ড। অবৈধ ৪ জন প্রার্থী আপিল বোর্ডে আপিল করলে ২৯ সেপ্টেম্বর উভয় প্যানেলের উপস্থিতিতে দীর্ঘ শুনানির পর আপিল বোর্ড নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রেখে ওই ৪ জনকে অবৈধ প্রার্থী হিসেবে রায় দেন এবং ৩০ সেপ্টেম্বর শুধু বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ৫ অক্টোবর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এরপর মো. সাদেকুল ইসলাম প্রশাসক দিনাজপুর ধান-চাউল ব্যবসায়ী গ্রুপকে প্রতিপক্ষ করে আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল, এফবিসিসিআইতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর: ১১/২০২৬)।
অভিযোগ করা হয়, ওই মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানসহ দুইজন সদস্য এবং দরখাস্তকারী মো. সাদেকুল ইসলামসহ দুইজন নিয়োগকৃত অ্যাডভোকেট উপস্থিত থাকলেও প্রতিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অফিস কর্মকর্তা মো. শাহিন, যার মামলার বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। প্রশাসকের পক্ষে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা অ্যাডভোকেট উপস্থিত ছিলেন না।
তাদের আরও অভিযোগ, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে আপত্তিকারক প্যানেলের মো. মোশাররফ হোসেনকে কোনো নোটিশ বা অবহিত না করে এবং পক্ষ না করেই গোপনে শুনানি সম্পন্ন করা হয়। অনিয়ম ও একতরফা শুনানির মাধ্যমে দরখাস্তকারীর পক্ষে প্রার্থিতা বহাল রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে নির্বাচন অফিসকে নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আরবিট্রেশনের নির্দেশ মোতাবেক ১১ অক্টোবর নির্বাচন বোর্ড উক্ত ৪ জনকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।
এর প্রতিবাদে এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের কারণে নির্বাচন এক মাস পেছানোর আবেদন প্রশাসক অগ্রাহ্য করায় ২৪ অক্টোবরের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় প্যানেলটি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন, সহ-সভাপতি প্রার্থী খাদিমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জহির উদ্দীন, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী সলিল বসাক, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী তাবিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক প্রার্থী সাইফুল আলম, নির্বাহী সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম, রতিশ বসাক উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন: সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে পর্যটকরা
আর/


