একজন শিক্ষক এবং পিতা- মাতা প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের ও সন্তানদের স্বপ্ন দেখায়, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবে। কিন্তু অত্যন্ত কষ্টের সঙ্গে কাছ থেকে দেখছি, কীভাবে আমার সন্তানসমতুল্য শিক্ষার্থীদের একটি অংশ সর্বনাশা মাদকের নেশায় ডুবে যাচ্ছে। যাদের হাতে থাকার কথা বই, যাদের চোখে থাকার কথা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, তাদেরই কারও কারও জীবন গ্রাস করছে মাদক। একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে বেদনাদায়ক দৃশ্য আর কী হতে পারে?
মাদক শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না; ধ্বংস করে একটি পরিবার, বিপন্ন করে সমাজ এবং হুমকির মুখে ফেলে একটি জাতির ভবিষ্যৎকে। শুধু তাই নয়,আজকের চুরি, ডাকাতি, ধর্ষণ খুন সকল অপরাধের মূলেই রয়েছে এই মাদক। মাদকের আসক্তি মানুষকে অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি ও অপরাধের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সব মাদকাসক্ত অপরাধী নয়, অনেকেই চিকিৎসা, সহমর্মিতা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
সম্মানিত দায়িত্বশীল ব্যক্তিগণ মাদকের এই ভয়াবহতায় আপনাদের কলিজার টুকরো সন্তানও আসক্ত হতে পারে। আপনাদের নিকট বিনয়ের সহিত অনুরোধ, আপনার সন্তানকে বাঁচতে দিন।
এই বাস্তবতায় ইশরাকের স্যারের মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থানকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। তাঁর এই অবস্থান যদি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে, তাহলে তা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। হয়তো তিনি প্রশাসনের প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি এমন প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়া যেমন আইনসম্মত সমাধান নয়, তেমনি ভাবতে হবে কেন তিনি অস্ত্র উঁচিয়ে ধরলেন? এখন প্রয়োজন অস্ত্রের পরিবর্তে আইনের শক্তি, প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা এবং জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধ। কিন্তু কেউ যদি মাদকের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর কারণে আলোচনায় আসেন, তাহলে তাঁর অবস্থানকে শুধু অস্ত্রের প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ না রেখে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর বক্তব্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রমও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
কারণ আজ যে শিক্ষার্থী মাদকে ডুবে যাচ্ছে, সে শুধু একটি পরিবারের সন্তান নয় সে আমাদের সমাজেরই সন্তান, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ।
কারণ, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না; কখনো কখনো একটি প্রজন্মকে মাদকের নেশায় ডুবিয়ে দিলেই যথেষ্ট।
আজ প্রশ্ন একটাই আমরা কি আমাদের সন্তানদের বাঁচাব, নাকি চোখের সামনে তাদের ধ্বংস হতে দেখেও নীরব থাকব?
লেখক: জাহাঙ্গীর আলম মিঠু, প্রধান শিক্ষক, গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।
পড়ুন : রাতের আঁধারে বনবিভাগের ৩ শতাধিক চারাগাছ কেটে সাবাড়


