কলমাকান্দায় মাদকবিরোধী অভিযান: নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

মাদক নীরব এক ঘাতক, যা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই ব্যাধি নির্মূলে এবং সমাজে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভরদুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া অভিযানের সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে এক নারীকেও কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে ওই দিনই নেত্রকোনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করেছে প্রশাসন।

আটককৃতরা হলেন- কলমাকান্দার করিকাকান্দি গ্রামের শ্রী ফেনেশ দাসের ছেলে শ্রী দিনেশ চন্দ্র দাস (৪০), বড়খাপন গ্রামের শ্রী ফরেন্দ্র চন্দ্র দাসের ছেলে শ্রী পূজন চন্দ্র দাস (২৪) এবং একই গ্রামের মো. মিলন মিয়ার মেয়ে মোছা. ময়না আক্তার (২২)।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল কলমাকান্দা থানাধীন বড়খাপন ও করিকাকান্দি গ্রামে অভিযান চালায়। মূলত সমাজকে মাদকমুক্ত করার নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় দুজনকে হাতেনাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি প্রশাসনের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো ও সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে এক নারীকেও আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন কলমাকান্দার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামছুজ্জামান আসিফ। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করেন।

আদালতের রায়ে, মাদকদ্রব্য সেবনের দায়ে অভিযুক্ত দিনেশ চন্দ্র দাস এবং পূজন চন্দ্র দাসের প্রত্যেককে তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে তাদের উভয়কে একশো টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে, সরকারি কাজে বাধা প্রদানের দায়ে ময়না আক্তারকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিচারকাজ শেষ হওয়ার পরপরই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে আগামী দিনেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : গাজীপুরের শ্রীপুরে ভাড়া বাসা থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন