বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। আগামীকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ঘোষণা করা হবে এবারের বিজয়ীর নাম। পুরস্কার ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা। এবারের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, স্পেন ও বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের সম্ভাবনা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে বুকমেকারদের বাজির বাজার।
ব্যালন ডি’অরের সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে বিভিন্ন বুকমেকারের বাজির দর পরিবর্তনের ফলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে কেইনের নাম। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা, ব্যক্তিগত অর্জন এবং দলের সাফল্য তাঁকে পুরস্কারের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার করে তুলেছে।
ব্যালন ডি’অরের পরবর্তী আসরের আগে প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেইন ৬৫টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল। বুকমেকারদের সাম্প্রতিক হিসাবেও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে তাঁর পক্ষে বাজির দর নেমে এসেছে ১.৩৫-এর কাছাকাছি।
এবারের পুরস্কার জিতলে ইংল্যান্ডের ফুটবলে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারেন কেইন। সর্বশেষ ২০০১ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়েন। ফলে কেইনের সম্ভাব্য জয় নিয়ে ইংলিশ ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ রয়েছে।
অন্যদিকে, বার্সেলোনার তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামালও এবারের পুরস্কারের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। গত মৌসুমে লা লিগায় ১৬ গোল করার পাশাপাশি ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তাঁর পারফরম্যান্সে ভর করে বার্সেলোনা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছে। স্পেনের ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের পথেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এই তরুণ তারকা।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে বুকমেকারদের বাজির বাজারে ইয়ামালের অবস্থানের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে তাঁর জয়ের পক্ষে বাজির দর বেড়ে প্রায় ৬.০০ হয়েছে, যা কেইনের তুলনায় তাঁর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে বাজির দর পুরস্কারের চূড়ান্ত ফল নয়; এটি বাজারের অনুমান ও বাজিদাতাদের আগ্রহের প্রতিফলন।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য ব্যালন ডি’অরের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। স্পেনের শিরোপা জয়ে ইয়ামালের অবদান তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রেখেছে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, গোলসংখ্যা ও ক্লাব পর্যায়ের অর্জনের দিক থেকে কেইনের শক্তিশালী অবস্থান এবারের লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচনের জন্য পুরুষদের বিভাগে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের একজন করে ক্রীড়া সাংবাদিক ভোট দেন। নারীদের বিভাগে শীর্ষ ৫০টি দেশের একজন করে সাংবাদিক ভোট দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।
ভোটাররা মনোনীত ৩০ জন খেলোয়াড়ের তালিকা থেকে নিজেদের পছন্দের সেরা ১০ জনকে ক্রমানুসারে নির্বাচন করেন। প্রথম স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড় পান ১০ পয়েন্ট। পরবর্তী অবস্থানগুলোর জন্যও নির্ধারিত পয়েন্ট রয়েছে। সব ভোট গণনার পর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া খেলোয়াড়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় ব্যালন ডি’অর।
এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বাজির বাজারে কেইন ও ইয়ামালের তুলনায় অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা পিছিয়ে আছেন।
সব মিলিয়ে, ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখছে বুকমেকারদের হিসাব। তবে পুরস্কারের প্রকৃত বিজয়ী নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে। তাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকছে কেইন ও ইয়ামালের লড়াই।
পড়ুন:আশরাফুলকে সরিয়ে দিল বিসিবি, ব্যাটিং কোচ সালাহউদ্দীন
ইমি/


