‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ কার্যক্রমের আওতায় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) প্রশিক্ষণরত ক্রীড়াবিদদের মধ্য থেকে তাদের বয়স, প্রশিক্ষণের লেভেল, ক্রীড়া দক্ষতা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ লেভেল থেকে বাছাইকৃত এই ৪০ জন উদীয়মান প্রশিক্ষণার্থী এখন বিকেএসপিতে অবস্থান করেই তাদের উচ্চতর ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।
দেশব্যাপী আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম আসরে দেড় লাখের বেশি প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদের অংশগ্রহণ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ৩০৬ জন সেরা খেলোয়াড়কে বাছাই করেছিল, যারা পরবর্তীতে বিকেএসপিতে ৪০ দিনের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের অনন্য সুযোগ পান। উক্ত নিবিড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প থেকেই তাদের সার্বিক দক্ষতা ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে সেরা ৪০ জন মেধাবী ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপির দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কর্মসূচির জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
এবারের বাছাইয়ে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে তরুণীদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে। ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১০ জন উচ্চতর প্রশিক্ষণের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন মেয়ে এবং তিনজন ছেলে। আবার কাবাডিতে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের জন্য নির্বাচিত পাঁচজনের মধ্যে চারজনই মেয়ে। ফুটবলেও একই চিত্র দেখা গেছে, সুযোগ পাওয়া পাঁচজনের চারজন মেয়ে এবং একজন ছেলে। সাঁতার, জুডো এবং উশু—এই তিনটি ভিন্ন খেলায় দুইজন করে প্রতিভাবান অ্যাথলেট দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে কারাতে এবং তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতায় সেরা দক্ষতা দেখিয়ে বিকেএসপিতে জায়গা করে নিয়েছেন তিনজন করে মোট ছয়জন ক্রীড়াবিদ। অ্যাথলেটিক্সে চারজন এবং ব্যাডমিন্টনে তিনজনের দলটিও বিকেএসপির আধুনিক সুবিধার অধীনে নিয়মিত অনুশীলন ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বিপুল প্রতিযোগী থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এই অ্যাথলেটরা এখন বিকেএসপির বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। শিক্ষা ও ক্রীড়ার এই সমন্বিত সুবিধা তাদের আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পড়ুন : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে মৎস্য প্রকল্পের খুঁটি-তার সরানোর অভিযোগ


