বিচ্ছেদ গুঞ্জনে তৃতীয় পক্ষকে দুষলেন গোবিন্দ

বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ ও তাঁর স্ত্রী সুনীতা আহুজার দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে কয়েক মাস ধরেই চলছে নানা আলোচনা। স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি একাধিকবার প্রকাশ্যে কথা বলেছেন সুনীতা। এবার স্ত্রীর সেই অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন গোবিন্দ। অভিনেতার দাবি, কেউ একজন সুনীতাকে প্রভাবিত করছেন। তবে তাঁর স্ত্রীকে কে বা কারা প্রভাবিত করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কারও নাম প্রকাশ করেননি তিনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাকে নিজের পারিবারিক জীবন ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি পরিকল্পনার অংশ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এই অভিনেতা।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৬২ বছর বয়সী গোবিন্দ বলেন, কাউকে প্রকাশ্যে অপমান করা কিংবা বিব্রত করা তাঁর স্বভাব নয়। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সাত-আট বছর আগেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তাঁর মতে, এখন সবাই যেন একই চক্রের মধ্যে আটকে গেছেন। আর এর মধ্যে বারবার তাঁর নামের সঙ্গে বদনামের বিষয়টি জড়িয়ে যাচ্ছে।

গোবিন্দ বলেন, ‘সাত-আট বছর আগে আমি বলেছিলাম, এমন একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এখন আমরা সবাই একই চক্রের মধ্যে আটকে গেছি। আমার নামের সঙ্গে সব সময় বদনামের বিষয়টি জড়িয়ে থাকে।’

অভিনেতার বক্তব্যে স্পষ্ট, চলমান বিতর্ক নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে পাল্টা আক্রমণের পথে হাঁটতে চান না। বরং পরিস্থিতি সামাল দিতে ধৈর্য ধরার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, সুনীতার অভিযোগের পেছনে অন্য কারও প্রভাব থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি।

সাক্ষাৎকারে গোবিন্দ আরও বলেন, যারা সুনীতাকে প্রভাবিত করছেন বলে তাঁর ধারণা, তাঁদের কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আপাতত অভিযোগ এড়িয়ে যাবেন। অভিনেতার ভাষায়, ‘যারা তাকে (সুনীতা) প্রভাবিত করছেন, তারা ক্লান্ত হয়ে পড়া পর্যন্ত আমি তার অভিযোগ এড়িয়ে যাব। তখন তাঁরা বুঝতে পারবেন, গোবিন্দর সঙ্গে ভুল করেছেন।’

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘তিক্ততা কখনো মিষ্টি হয়ে উঠবে না। এই সময়টা পার হয়ে গেলে মানুষ বলবে, আমি সম্মানের সঙ্গে আচরণ করেছি। আমি তাঁদের ফাঁদে পা দিচ্ছি না।’

গোবিন্দর এই বক্তব্যের পর দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সুনীতা আহুজার বক্তব্য কী, তা জানা না গেলে পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের বক্তব্যের বাইরে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্যও সীমিত।

১৯৮৭ সালে বিয়ে করেন গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজা। দীর্ঘদিনের এই দাম্পত্য জীবনে তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে—মেয়ে টিনা ও ছেলে যশবর্ধন। বলিউডের পরিচিত এই দম্পতির পারিবারিক জীবন বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিতর্কের অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে গোবিন্দর ‘রূপা’ সিনেমার সহশিল্পী কোমল রানি স্বর্ণকারের সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক। সুনীতা প্রকাশ্যে এই সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। লালবাগচা রাজা মন্দিরে গোবিন্দ ও কোমল রানিকে একসঙ্গে দেখা যাওয়ার ঘটনাও এ নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে কোমল রানি স্বর্ণকার এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। এক বিবৃতিতে তিনি গোবিন্দর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার গুঞ্জন অস্বীকার করেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলতে থাকলেও কথিত সম্পর্কের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি।

অন্যদিকে, গোবিন্দ এই গুঞ্জনকে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ বলে দাবি করেছেন। সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এটা কারও দোষ নয়। এটি খুব কৌশল করে পরিকল্পনা করা হয়েছে। আরও এমন ঘটনা ঘটবে। আমাকে পরিবার থেকে দূরে সরিয়ে সমাজে আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার পরিকল্পনার অংশ ছিল এটি।’

অভিনেতার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি চলমান বিতর্ককে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর ধারণা, এর পেছনে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি প্রকাশ্যে কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ পেয়েছেন, তা বিস্তারিত জানাননি।

সব মিলিয়ে, গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজার দাম্পত্য সম্পর্ক ঘিরে বিতর্ক এখনো অব্যাহত। একদিকে সুনীতার পরকীয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে গোবিন্দর দাবি—তাঁর স্ত্রীকে কেউ প্রভাবিত করছেন এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে। দুই পক্ষের বক্তব্য সামনে এলেও পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের এই টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, তা জানতে এখন দুই পক্ষের পরবর্তী বক্তব্যের দিকেই নজর থাকবে ভক্ত ও বিনোদনজগতের অনুসারীদের।

পড়ুন:আকিজ বশির গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন