মেহেরপুর পৌরসভার পানির বিল পরিশোধ করেও নতুন বিলে বকেয়া ও জরিমানা দেখে বিপাকে পড়েছেন প্রায় ৫০০ গ্রাহক। কারও এক মাস, আবার কারও তিন মাসের বকেয়া দেখানো হয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন সফটওয়্যারে বিল প্রস্তুত করতে গিয়ে এ ত্রুটি হয়েছে। তবে বিল বিতরণের আগে যাচাই না করায় গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যবসায়ী মো. রিনু বলেন, পৌরসভার সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, পোকামাকড় ও মলের মতো বস্তু পাওয়ার অভিযোগ পুরোনো। এসব সমস্যার সমাধান না হতেই এবার যুক্ত হয়েছে ভুতুড়ে বকেয়া ও জরিমানা। বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন, বিল বিতরণের আগে তথ্য যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু এখন গ্রাহকদের নিজেদের কাজ ফেলে সময় ও অর্থ ব্যয় করে পৌরসভায় গিয়ে বিল সংশোধন করাতে হচ্ছে। পাঁচ শতাধিক বিলে এমন সমস্যা হওয়া দুঃখজনক।
পৌরসভার পানি শাখার বিল ক্লার্ক হাবিবুর রহমান বলেন, গত ২৩ অক্টোবর তৈরি করা বিলগুলোতে অতিরিক্ত বকেয়া দেখানো হয়েছে। আগের বিল পরিশোধের প্রমাণসহ পুরোনো ও নতুন বিল নিয়ে এলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করে দেওয়া হচ্ছে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, বিল বিতরণের আগে তথ্য যাচাই না করা বড় ভুল। আগে ম্যানুয়ালি বিল তৈরি করা হলেও চলতি মাস থেকে অনলাইনে বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। ব্যাংকের তথ্য অনলাইনে সঠিকভাবে হালনাগাদ না হওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
মেহেরপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার বিল অটোমেশন পদ্ধতি চালু করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন না হয়ে পৌরসভায় এসে বিল সংশোধন করিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিল পরিশোধের পরও নতুন করে বকেয়া ও জরিমানা দেখানোর ঘটনায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দ্রুত ত্রুটি সংশোধন এবং ভবিষ্যতে এমন ভোগান্তি এড়াতে বিল বিতরণের আগে তথ্য যাচাই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পড়ুন:বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে ইউনিক্লোকে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ইমি/


