শিশুদের সৃজনশীল বিকাশ ও নান্দনিক শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত শিশু উৎসব ‘জোনাকিদের আসর’।
৩০ অক্টোবর শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণে এবং ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য উৎসবের আয়োজন করেছে “শিকড় চিলড্রেন্স থিয়েটার”। সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে “কিডস টাইম খিলগাঁও”।
দুপুর ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দুটি ভিন্ন ও আকর্ষণীয় পর্বে সাজানো হয়েছে এবারের পুরো আয়োজন। প্রথম পর্ব ক্রিয়েটিভ ফেয়ার থাকছে দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। উৎসবের প্রথমভাগে শিশুদের জন্য থাকছে মুক্ত সৃজনশীলতার এক অনন্য সুযোগ। এতে ক্ষুদে শিল্পীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে আর্টস অ্যান্ড ক্রাফটস, মাটির কাজ (ক্লে ওয়ার্ক), টি-শার্ট পেইন্টিং, ফেস পেইন্টিং এবং পুতুল বানানোর মত মজার মজার বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাক্টিভ অ্যাক্টিভিটিতে।
দ্বিতীয় পর্বে রয়েছে থিয়েটার গালা যা উপস্হাপিত হবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। সন্ধ্যার পরিবেশনা শুরু হবে ড. নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে। এই পর্বে থাকছে শিশুদের দৃষ্টিনন্দন আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশনা এবং “ইনভেন্টরস পাপেট” এর পরিবেশনায় ‘লাইভ পাপেট শো’। পাপেট শো শেষে অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে বরেণ্য নাট্যকার নাজমা জেসমিন চৌধুরীর রচনায় এবং জিয়াউল হক সোহাগ-এর নির্দেশনায় শিশুদের মঞ্চনাটক ‘ওরা ছিল বাগানে’।
ওরা ছিলো বাগানে নাটকের কাহিনীতে দেখা যায়, কংক্রিটের এই শহরে শিশুদের মুক্ত আলো-বাতাসে খেলাধুলার জায়গা দিন দিন কমে আসছে। চারদেয়ালের মাঝে স্ক্রিন-নির্ভর জীবনে বন্দি হয়ে আজকের শিশুরা প্রকৃতি, শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ এবং সামাজিক মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়েই ‘ওরা ছিল বাগানে’ নাটকটি নির্বাচন করা হয়েছে। নাটকটির মূল বার্তা হলো- “শিশুদের জন্য উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা, প্রকৃতির সাথে তাদের বন্ধন পুনঃস্থাপন করা এবং তাদের মাঝে মায়াবোধ ও সহমর্মিতা জাগিয়ে তোলা।”

আয়োজকদের পক্ষে শিকড় চিলড্রেনস থিয়েটারের দলীয় প্রধান-কোরিওগ্রাফার ও নির্দেশক জিয়াউল হক সোহাগ বলেন, “শিশুদের কেবল ডিজিটাল স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের হাতের কাজ, নাটক, পাপেট শো ও চিত্রকলার মধ্য দিয়ে মানবিক ও নান্দনিকভাবে গড়ে তোলাই আমাদের এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। বিগত সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টিকিট কেটে নাটক দেখে আমাদের যে অনুপ্রেরণা-সাহস ও শক্তি যুগিয়েছেন তাতে করে আমাদের কর্মের পরিধি বিস্তৃত ও গভীর হওয়ার দাবী রাখে। আমরাও আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু উজার করে চেষ্টা করছি শিশু বান্ধব উৎসবের আয়োজন করতে। সকল দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি ও অনুপ্রেরণা পেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো বলেই বিশ্বাস। আমাদের আয়োজনে অংশগ্রহণ করার জন্য সকলকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।”
পড়ুন : সমু চৌধুরীর চিকিৎসার সব খরচ দেবে অভিনয়শিল্পী সংঘ


