বলিউডের তরুণ অভিনেতা ইব্রাহিম আলী খান ও অভিনেত্রী পলক তিওয়ারির প্রেমের গুঞ্জন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, রেস্তোরাঁয় সময় কাটানো থেকে শুরু করে ছুটি উদ্যাপন—বিভিন্ন সময় তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। যদিও কখনোই নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি দুজন। এবার সামনে এসেছে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা কথিত সেই প্রেমের সম্পর্কে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইব্রাহিম ও পলক।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্ধুত্বপূর্ণভাবেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দুই তারকা। বিচ্ছেদের উদ্যোগ ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ধরনের আলোচনা করতে চান না তারা। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি ব্যক্তিগত রাখতেই আগ্রহী দুজন।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইব্রাহিম ও পলকের বিচ্ছেদের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। তবে দুজনের মধ্যে কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিরোধ বা কাদা ছোড়াছুড়ির পরিকল্পনা নেই। বরং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
ওই সূত্রের ভাষ্য, ‘বিচ্ছেদের কারণ আমরা জানি না। তবে সিদ্ধান্তটি বন্ধুত্বপূর্ণভাবেই হয়েছে। ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করার পরিকল্পনা তাদের নেই। আপাতত দুজনই নিজেদের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেবেন।’
বিনোদনজগতের তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা সময় আলোচনা তৈরি হলেও ইব্রাহিম ও পলক বরাবরই নিজেদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরব থেকেছেন। এবার বিচ্ছেদের খবর সামনে এলেও এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের পাশাপাশি তাদের পেশাগত পরিকল্পনাতেও বিচ্ছেদের প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একসঙ্গে কয়েকটি শুটিং করার পরিকল্পনা ছিল ইব্রাহিম ও পলকের। তবে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যাওয়ায় সেই পরিকল্পনাগুলোর কিছু বাতিল করা হয়েছে। আবার কয়েকটি কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
যদিও এসব কাজের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন তাদের পেশাগত সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত দুজনই নিজেদের অভিনয়জীবন ও ভবিষ্যৎ কাজের দিকে মনোযোগ দিতে চান।
ইব্রাহিম ও পলকের সম্পর্কের গুঞ্জনের শুরু ২০২২ সালে। সে সময় মুম্বাইয়ের একটি রেস্তোরাঁ থেকে দুজনকে একসঙ্গে বের হতে দেখা যায়। পাপারাজ্জিদের ক্যামেরা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছিল পলককে। সেই ঘটনার পর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে বলিউডে আলোচনা শুরু হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, রেস্তোরাঁয় সময় কাটানো এবং ছুটি উদ্যাপনের খবর প্রকাশ্যে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের মধ্যে নানা আলোচনা চলতে থাকে। তবে এত কিছুর পরও নিজেদের সম্পর্কের বিষয়ে কখনো প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি দুজন।
তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন উঠলেও ইব্রাহিম কিংবা পলক কেউই সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। ফলে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি বরাবরই আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
পলক তিওয়ারি জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির মেয়ে। অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন তিনি। অন্যদিকে ইব্রাহিম আলী খান বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ও অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের ছেলে। তারকা পরিবারের সন্তান হওয়ায় শুরু থেকেই বিনোদনমাধ্যমের নজরে রয়েছেন তিনি।
ইব্রাহিম ও পলক দুজনই নিজেদের অভিনয়জীবনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে ভক্তদের আগ্রহও ছিল বেশ। এবার বিচ্ছেদের খবর সামনে আসায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাদের নাম।
তবে সম্পর্কের শুরু কিংবা বিচ্ছেদ—কোনো বিষয়েই এখন পর্যন্ত দুজনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তাই হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য ও সূত্রের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই বিচ্ছেদের খবরটি সামনে এসেছে। আপাতত ব্যক্তিগত জীবন পেছনে রেখে নিজেদের ক্যারিয়ারে মনোযোগ দেওয়াই ইব্রাহিম ও পলকের লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
পড়ুন:পারিবারিক বিনোদনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে ‘ফ্যামিলি ফিউড বাংলাদেশ’ সিজন ২!
ইমি/


