সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের দুই প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ ঢাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ির পথে রয়েছেন। অন্যদিকে, প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুর এলাকায় স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ।
নিহত নাটোরের তিন প্রবাসী হলেন—নলডাঙ্গা উপজেলার শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ, দিঘীরপাড় গ্রামের মো. জাকের আলীর ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা গ্রামের আসলাম শেখের ছেলে রবিউল আউয়াল হৃদয়। এরমধ্যেই রবিউল আউয়াল হৃদয়ের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে সমাহিত করা হয়েছে।
ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ঋণ-ধার করে, এমনকি জমিজমা বিক্রি করে সন্তানদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া সেই মানুষগুলো ফিরছেন নিথর দেহে। স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্না ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি পর্যায় থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া ছাড়া পরবর্তীতে আর কেউ তাদের খোঁজখবর নেননি। জনপ্রতিনিধিরাও পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যায়নি বলে দাবি স্বজনদের।
এ অবস্থায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তাদের দাবি, অসহায় পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হোক।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের ১৬ জন শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে নাটোরের দুইজনের মরদেহ আজ ঢাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পড়ুন:চুয়াডাঙ্গায় গলায় খাবার আটকে বৃদ্ধর মৃত্যু
ইমি/


