দুর্গাপুরের জয়ের ‘গোল্ডেন হ্যাটট্রিক’: টানা তিন পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫

মেধা, একাগ্রতা আর ঘামঝরা পরিশ্রমের মেলবন্ধন ঘটলে সাফল্য যে হাতের মুঠোয় এসে ধরা দেয়, তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার মেধাবী মুখ নাঈমুর রহমান জয়। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে শিক্ষাজীবনের টানা তিনটি পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফলের ‘হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করেছে সে। দুর্গাপুরের শিক্ষাঙ্গনে জয়ের অনন্য ও কৃতিত্বপূর্ণ অর্জন এখন সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। শুধু তাই নয় দুর্গাপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিনজনের একজন জয়।

সীমান্তবর্তী জনপদ দুর্গাপুরের সুসং সরকারি মহাবিদ্যালয় থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল নাঈমুর রহমান জয়। এর আগে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) এবং মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষাতেও মেধার স্বাক্ষর রেখে জিপিএ-৫ অর্জন করেছিল সে। প্রতিদিনের রুটিন মাফিক নিরলস পাঠাভ্যাস এবং অদম্য অধ্যবসায়ই তাকে এনে দিয়েছে টানা তিন পরীক্ষায় শ্রেষ্ঠত্বের বিরল গৌরব।

অদম্য এই মেধাবীর বাড়ি দুর্গাপুর উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে। মো. বাবুল মিয়া ও নাসিমা খাতুন দম্পতির সন্তান জয়ের ধারাবাহিক সাফল্যে আজ আনন্দের বন্যা বইছে তার পরিবারে। শুধু পরিবারই নয়, তার অর্জনে উচ্ছ্বসিত কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, সহপাঠী, বন্ধু-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী থেকে শুরু করে দৌলতপুরসহ পুরো দুর্গাপুরের সাধারণ মানুষ।

এক যুগের শিক্ষাজীবনের গৌরবময় মাইলফলক স্পর্শ করার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে নাঈমুর রহমান জয়। নিজের সাফল্যকে মা-বাবা, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসর্গ করে জয় বলে, “মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমার শিক্ষাজীবনের ১২ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের সার্থক সমাপ্তি ঘটল। এই পথচলা কেবল সাধারণ যাত্রা ছিল না; এটি ছিল নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ এবং টিকে থাকার নিরন্তর লড়াই। শত শত রাতের নির্ঘুম পরিশ্রম আর হার না মানা মনোবলকে পুঁজি করেই শেষ পর্যন্ত এই স্নায়ুযুদ্ধ জয় করতে পেরেছি।”

নিজের সাফল্যের নেপথ্যে মা-বাবার অকৃত্রিম অনুপ্রেরণা এবং শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনাকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে জয় আরও জানায়, সকলের দোয়া ও ভালোবাসাই তাকে আগামীর কঠিন ধাপগুলো পাড়ি দিতে সাহস জোগাবে।

এদিকে জয়ের এমন ঈর্ষণীয় ফলাফলে গর্বিত দুর্গাপুরের শিক্ষাঙ্গন ও সুধী সমাজ। স্থানীয় শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা কৃতি এই শিক্ষার্থীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের মতে, জয়ের অর্জন পুরো দুর্গাপুরবাসীকে সম্মানিত করেছে এবং তা নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।

স্থানীয় সুধীজনরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, পুঁথিগত বিদ্যার অসাধারণ সাফল্যের পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে জয় একদিন সমাজকে আলোকিত করবে। ভবিষ্যতে একজন আদর্শ ও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে অবদান রেখে সে দুর্গাপুরের নাম আরও উজ্জ্বল করবে- এমনটাই কামনা সর্বস্তরের মানুষের।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে বাস-অটোভ্যান মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ নিহত ২

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন