দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে হার প্রায় নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। ওল্ড ট্রাফোর্ডে তখন ক্ষোভে ফুঁসছিলেন সমর্থকেরা। মাঠের বাইরে ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আর মাঠের ভেতরে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছিল স্বাগতিকরা। তবে এমন বিপর্যয়ের মুহূর্তেই দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড মাতেউস কুনিয়া। তাঁর জোড়া গোলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে রোমার বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ইউনাইটেড।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচের জয়খরা কাটিয়েছে মাইকেল ক্যারিকের দল। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে।
ম্যাচ শুরুর আগে তেনেরিফের ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়। তাঁর স্মরণে মাঠে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকেরা।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা। স্বাগতিকদের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। এর ফলও পেয়ে যায় দ্রুত।
ম্যাচের ১১তম মিনিটে মাতিয়াস সুলের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আবারও বিপদে পড়ে ইউনাইটেড। ১৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডনিয়েল মালেন। মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে বড় চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা।
এদিকে মাঠের বাইরে তখন আরও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। ম্যাচ শুরুর আগেই সবুজ ও সোনালি বেলুন উড়িয়ে ক্লাবের মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সমর্থকেরা। গ্লেজার পরিবার, সংখ্যালঘু মালিক স্যার জিম র্যাটক্লিফ এবং ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তাঁরা।
দলের বাজে পারফরম্যান্সে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। প্রথমার্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে গ্যালারি থেকে মাঠে ছুড়ে মারা হয় বেশ কয়েকটি হলুদ টেনিস বল। এতে কিছু সময়ের জন্য ম্যাচের স্বাভাবিক পরিবেশও বিঘ্নিত হয়।
এর মধ্যেই আরও একটি বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়তে হয় ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ানো মিডফিল্ডার কার্লোস বালেবাকে। ফলে বিরতির আগেই আরও কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায় স্বাগতিক দল।
দ্বিতীয়ার্ধে নতুন উদ্যমে মাঠে নামে ইউনাইটেড। ম্যাচে ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় তারা। একের পর এক আক্রমণে রোমার রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখেন স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়েরা।
অবশেষে ৫৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমান অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। তবে গোলটি করতে কিছুটা নাটকীয়তার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। পেনাল্টি নেওয়ার আগে রোমার এক খেলোয়াড় বক্সে প্রবেশ করায় প্রথমবারের শটটি বাতিল করা হয়। পরে দ্বিতীয়বার পেনাল্টি নিতে এসে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান পর্তুগিজ এই মিডফিল্ডার।
গোলের পর ম্যাচে ফেরার আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ইউনাইটেড। ধীরে ধীরে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে তারা। আক্রমণের ধারও বাড়তে থাকে। ব্রায়ান এমবুমোর একটি শট দুই পোস্টে লেগে ফিরে এলে সমতায় ফেরার আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের।
ম্যাচের শেষ দিকে এসে রোমার ওপর চাপ আরও বাড়ায় ইউনাইটেড। ৮৩তম মিনিটে সেই চাপের ফল পায় দলটি। রোমার ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দির ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন মাতেউস কুনিয়া। তাঁর গোলে ২-২ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা।
সমতা ফেরানোর পরও থামেননি ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। মাত্র তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৮৬তম মিনিটে তীক্ষ্ণ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি মুহূর্তেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
তবে নাটকীয়তা তখনো শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় কুনিয়াকে। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইউনাইটেড। কিন্তু একজন কম নিয়ে খেলেও শেষ পর্যন্ত রোমার আক্রমণ সামলে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
রোমার বিপক্ষে এই জয় ইউনাইটেডের জন্য আত্মবিশ্বাস ফেরানোর বড় উপলক্ষ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
এদিকে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। বার্সেলোনা ও অ্যাস্টন ভিলাসহ ছয়টি দল ৯ পয়েন্ট করে নিয়ে তালিকায় অবস্থান করছে। অন্যদিকে চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ১৭ নম্বরে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
রোমার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের পর এখন পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে মাইকেল ক্যারিকের দলের বড় চ্যালেঞ্জ।
পড়ুন:রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪
ইমি/


