চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ ছন্দে থাকা অ্যাস্টন ভিলার জয়রথ থামিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে ইংলিশ ক্লাবটিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কাতালানরা। বার্সেলোনার জয়ে জোড়া গোল করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া। অন্য গোলটি এসেছে তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের পা থেকে। এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও জয়ের ধারায় ফিরেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
মঙ্গলবার রাতে ন্যু ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে টানা তিন জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামা অ্যাস্টন ভিলা শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আক্রমণ সামলাতে পারেনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ পিএসজির কাছে হারের পর এই জয়ে স্বস্তি ফিরেছে বার্সেলোনা শিবিরে। বিপরীতে টানা তিন জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেয়েছে ভিলা।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। জোয়াও গোমেজের ভুল পাস থেকে বল পেয়ে যান লামিন ইয়ামাল। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন স্প্যানিশ এই তরুণ। চলতি মৌসুমে ১৫ ম্যাচে এটি তাঁর ১৩তম গোল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল ইয়ামালের ১৪তম গোল। এর মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা কিশোর ফুটবলারদের তালিকায় কিলিয়ান এমবাপেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। অল্প বয়সেই ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে চলেছেন এই বার্সেলোনা তারকা।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে অ্যাস্টন ভিলা। মাতি ক্যাশ ও জোয়াও গোমেজের শট থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ইয়োহান মানজাম্বিও গোলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে বার্সেলোনার রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় সমতায় ফিরতে পারেনি সফরকারীরা।
বিরতির পর আরও গোছানো ফুটবল খেলতে শুরু করে বার্সেলোনা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে একের পর এক আক্রমণ চালায় স্বাগতিকরা। এরই ধারাবাহিকতায় ৫২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। রাফিনিয়ার নেওয়া শট অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার পাউ তোরেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে প্রবেশ করে। বলের গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় গোলরক্ষক জিওন সুজুকির কিছুই করার ছিল না।
এরপর ৬৪তম মিনিটে আবারও গোল করেন রাফিনিয়া। বাঁ প্রান্ত থেকে জোয়াও কানসেলোর দুর্দান্ত পাস পেয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তাঁর দ্বিতীয় গোলেই কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।
চলতি মৌসুমে মাত্র ১৩ ম্যাচ খেলেই নিজের গোলসংখ্যা ১৯-এ নিয়ে গেছেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তাঁর ২৩তম গোল। এই প্রতিযোগিতায় ক্লাবটির হয়ে সমান ২৩টি গোল রয়েছে রবার্ট লেভানডফস্কিরও। তাঁদের ওপরে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি (১২০) ও লুইস সুয়ারেজ (২৫)।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছেন রাফিনিয়া ও ইয়ামাল। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দলের ৬০টি গোলের মধ্যে এই দুই তারকার অবদান ৩২টি। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলদাতাও রাফিনিয়া। তাঁর গোলসংখ্যা ১৯। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমবাপ্পের গোল ১৫টি।
অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে জয়ের ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ফেরমিন লোপেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক সুজুকি। ইয়ামালও আরও দুবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
এই জয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৯ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে সমান ৯ পয়েন্ট রয়েছে অ্যাস্টন ভিলারও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে কাতালান ক্লাবটি।
এ জয়ের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অপেক্ষাও ঘুচিয়েছে বার্সেলোনা। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় কোনো গোল হজম না করে ম্যাচ শেষ করেছে তারা। ফলে রক্ষণভাগ নিয়েও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ফ্লিকের দলের সামনে।
তবে সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। আগামী রোববার লা লিগায় শীর্ষস্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে পাওয়া এই জয় নিয়ে সেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নামতে চাইবে কাতালানরা।
পড়ুন:রাজধানীর কল্যাণপুরে বাস-লেগুনা মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৪
ইমি/


