মদনে বাছুর বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশা দুর্ঘটনায় বৃদ্ধা নিহত

সকালের রোদ তখন কেবল উঁকি দিয়েছে মদন-নেত্রকোনা সড়কে। প্রতিদিনের মতো জীবিকার তাগিদে কিংবা আপন গন্তব্যে ছুটছিল মানুষ। সেই চিরচেনা সড়কেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চেপে যাচ্ছিলেন সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। কে জানত, সড়কের একটি বাঁকেই তার জন্য অপেক্ষা করছে নির্মম পরিণতি। হঠাৎ দৌড়ে আসা একটি তাজা প্রাণের বাছুরকে বাঁচাতে গিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারালে, মুহূর্তেই থমকে যায় আনোয়ারা বেগমের জীবন প্রদীপ।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নেত্রকোনার মদন পৌরসভার সিলেট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির সামনে হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত আনোয়ারা বেগম (৭০) উপজেলার জাওলা গ্রামের প্রয়াত বুলবুল মিয়ার স্ত্রী। বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে এসে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে আনোয়ারা বেগম অটোরিকশাযোগে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ভূঁইয়া বাড়ির সামনে পৌঁছালে আকস্মিকভাবে একটি গরুর বাছুর দৌড়ে সড়কের ঠিক মাঝখানে চলে আসে। চলন্ত অটোরিকশার চালক বাছুরটিকে বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ব্রেক কষে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে রিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাছুরের সাথে ধাক্কা খেয়ে সড়কে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম ছিটকে পড়ে গুরুতর আঘাত পান। আশপাশের মানুষ দ্রুত ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাহউদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

গ্রামীণ ও মফস্বল সড়কে গবাদিপশুর অবাধ বিচরণ এবং অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত গতি আবারও কেড়ে নিল তাজা একটি প্রাণ- যা সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

পড়ুন : ঢামেকে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন