চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরা এবং প্রবাসে বসবাসরত চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গত রোববার (১ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যের রমফোর্ডের মেফেয়ার হলে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রামের চারজন সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর উপস্থিতিতে উৎসবটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। উৎসবের মূল অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ আলী রেজা, মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান ও সুজন বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন মিসেস রীনা দাস, নূরুন্নবী আলী ও শাহানা মালেক।
উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। এ ছাড়া মাননীয় হাইকমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর মোরশেদুর রহমান তালুকদার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ION TV-এর প্রধান নির্বাহী আতাউল্লাহ ফারুক, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও এটিএন বাংলার ডেপুটি ইনচার্জ মো. মনজুর কাদের, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর, ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক নাজিম উদ্দিন, মো. নাজিম উদ্দিন, এমডি খান জোনায়েদ, ক্যামডেন কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলর নাছিম আলম, মিসেস লিনা চৌধুরী, ড. শাহীদ চৌধুরী, জাগির আলম চৌধুরী, আরশাদ মালেক ও অনুপম রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উৎসবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন দানবীর ও বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা আলহাজ্ব সুফি মিজানুর রহমান, শিক্ষাবিদ প্রফেসর নূরুল নবী, বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা মির্জা সালমান ইস্পাহানি, দবিরুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আতিক চৌধুরী, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব কাজী আবুল হোসেন বাবুল, জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা মোহাম্মদ আলমগীর এবং কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ওয়াজিদ হাসান সেলিম (BEM)।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবীণদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন মোহাম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ আলমগীর, কামরুন নাহার বেগম, কোফিল উদ্দিন, জাগির আলম চৌধুরী, গুলনাহার খান, উদয় শঙ্কর দাস, ইউসুফ মিয়া, সংযুক্তা বড়ুয়া ও লিলি বড়ুয়া। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং কমিউনিটির প্রতি তাঁদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
উৎসবের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও চট্টগ্রামের সন্তান রবি চৌধুরী সংগীত পরিবেশন করেন। তাঁর পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। দিনব্যাপী আয়োজনে চট্টগ্রামের স্থানীয় শিল্পী ও কবিরা গান পরিবেশন এবং কবিতা পাঠ করেন। এ ছাড়া নৃত্য, মুখাভিনয়, ব্যান্ড সংগীত ও আকর্ষণীয় ফ্যাশন শোর আয়োজন ছিল। চট্টগ্রামের মেয়ে এমির পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ফ্যাশন শো দর্শকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। উৎসবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বলি খেলাও অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষে মোহাম্মদ আলী রেজা, মাসুদুর রহমান ও সুজন বড়ুয়া জানান, চট্টগ্রাম উৎসব কোনো একক প্রতিষ্ঠানের আয়োজন নয়; এটি প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগ। চট্টগ্রামভিত্তিক ১৬টি প্রতিষ্ঠান এ আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে।
তাঁরা বলেন, চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রবাসী ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
আয়োজকদের পক্ষে মোহাম্মদ আলী রেজা ও মাসুদুর রহমান আরও জানান, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে ও উন্মুক্ত স্থানে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী আয়োজনগুলোতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, বলি খেলা, আঞ্চলিক খাবার, লোকজ সংস্কৃতি ও সংগীতকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ কমিটির পক্ষ থেকে উৎসব সফল করতে সহযোগিতাকারী অতিথি, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, পৃষ্ঠপোষক, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
পড়ুন : ঢামেকে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান
সা/


