মেধাবী শিক্ষার্থীর সাফল্যে অভিনন্দন জানাতে এবার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিলেন মেহেরপুরের গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। কোনো আনুষ্ঠানিকতা কিংবা পূর্বঘোষণা ছাড়াই ফুল ও মিষ্টি হাতে নিয়ে হঠাৎ হাজির হলেন কৃতী শিক্ষার্থী কামরুন নাহার নেহার বাড়িতে। পুলিশের একজন কর্মকর্তার এমন আন্তরিক উপস্থিতিতে বিস্মিত হয়ে পড়েন নেহার পরিবারের সদস্য ও শিক্ষকরা। একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ওসির এমন উদ্যোগ এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কোনো আনুষ্ঠানিকতা কিংবা পূর্বঘোষণা ছাড়াই ফুল ও মিষ্টি হাতে নিয়ে গাংনী পৌর এলাকার ঈদগাঁপাড়ায় কৃতী শিক্ষার্থী কামরুন নাহার নেহার বাড়িতে হাজির হন তিনি।
মেহেরপুর জেলায় মানবিক বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করে আলোচনায় আসেন কামরুন নাহার নেহা। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৩০০ নম্বরের মধ্যে ১ হাজার ১২৫ নম্বর পেয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন তিনি। গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এমন সাফল্যের খবর পেয়ে শুভেচ্ছা জানাতে নিজেই ফুল ও মিষ্টি নিয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী।
কৃতী শিক্ষার্থী কামরুন নাহার নেহা বলেন, এই অর্জন শুধু আমার একার নয়। বাবা-মা ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা এবং পরিশ্রমের ফলেই আজকের এই সাফল্য। ভবিষ্যতে আইন পেশায় যুক্ত হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিভিন্ন সময় অনেক মানুষ মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হন। একজন আইনজীবী হতে পারলে সমাজের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে চাই।
নেহার মা মালেকা খাতুন বলেন, মেয়েকে ভালো ফলাফল করার জন্য সব সময় পড়াশোনায় উৎসাহ দিতাম। তার ভালো ফলাফলে আমরা অনেক খুশি। তবে থানার ওসি নিজে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে মেয়েকে শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন, তা কখনো ভাবিনি। তার এমন ভালোবাসা ও উৎসাহে আমরা সত্যিই আবেগাপ্লুত।
নেহার বাবা কোরবান আলী বলেন, পরীক্ষার আগে মেয়েকে ভালোভাবে পড়াশোনা করার জন্য অনেক সময় বকাঝকা করতাম। কখনো কখনো খারাপও লাগত। কিন্তু মেয়ের এমন ফলাফলে আজ সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে। ওসির এমন আন্তরিকতায় আমরা অভিভূত।
নেহার সহকারী শিক্ষকরা জানান, কামরুন নাহার নেহা শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও মনোযোগী শিক্ষার্থী ছিল। ক্লাসে পড়ানোর সময় অন্য শিক্ষার্থীরা দুষ্টুমি করলেও নেহা সব সময় শিক্ষকের পাঠের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। কখনো কোনো বিষয় বুঝতে অসুবিধা হলে মনোযোগ দিয়ে তা বোঝার চেষ্টা করত। তাকে তারা নিজের সন্তানের মতো স্নেহ ও যত্ন দিয়ে পড়িয়েছেন। তার এই অসাধারণ ফলাফলে শিক্ষক হিসেবে তারা গর্বিত ও আনন্দিত। একই সঙ্গে মেহেরপুর জেলায় সেরা ফলাফল অর্জন করায় নেহাকে অভিনন্দন জানান তারা। একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্যে গাংনী থানার ওসির সরাসরি বাড়িতে গিয়ে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান শিক্ষকরা। তাদের মতে, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেহার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।
গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুস্তাফিজুর রহমান বাবলু বলেন, নেহার এমন কৃতিত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার। ফুল ও মিষ্টি নিয়ে তার বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানোয় ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর প্রতি বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মেহেরপুর জেলায় মানবিক বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করায় নেহাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে তার বাড়িতে গিয়েছি। একজন শিক্ষার্থীর এমন অর্জন শুধু তার পরিবার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের বিষয়। মেধাবীদের উৎসাহিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। নেহা যেন ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, সে বিষয়ে তাকে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছি। সে তার স্বপ্ন পূরণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, এটাই প্রত্যাশা।
পড়ুন : ঢামেকে দুদকের আকস্মিক অভিযান, ক্ষুব্ধ দুদক চেয়ারম্যান
সা/


