আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষণা অনুযায়ী, পাঁচ ধাপের এই ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়সূকিকে সামনে রেখে নতুন করে কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে দলটি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। দলটির যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ এ বিষয়ে জানান, “আমরা কোনো জোটের অধীনে নয়, বরং এককভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেব। মানুষ একটি নতুন ধারার পরিবর্তন চায়। জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”
প্রস্তুতি ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের ৪ হাজার ৫৬৮টি ইউনিয়নে কমিটি গঠন এবং দলসমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০০ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কাজ চলছে। ইউনিয়ন কমিটি ৫১ সদস্যের এবং ওয়ার্ড কমিটি ৩১ সদস্যের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয়ভাবে পরিচিত, সৎ, দেশপ্রেমিক, সচ্ছল, সুশিক্ষিত ও মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইউপির পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের পাঁচ সিটি করপোরেশনের জন্যও প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার মনে করেন, বিএনপি ও জামায়াতের মতো প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাইরে এনসিপি প্রার্থীরা সাংগঠনিক ভোটের পাশাপাশি দোদুল্যমান ভোটও পাবেন। ফলে নির্বাচনে ভালো ফলাফলের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।
আঞ্চলিক সমন্বয় সভা ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম:
তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করতে অঞ্চলভিত্তিক সমন্বয় সভা শুরু করেছে দলটি। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অংশগ্রহণে সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর এবং গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রংপুরের চার জেলা নিয়ে দিনাজপুরে আঞ্চলিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ধরনের সভার মাধ্যমে ধাপে ধাপে সারা দেশের সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে চায় এনসিপি।
পড়ুন : শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি ক্রেতাদের, চড়া মাছ-মাংসের বাজার
সা/


