শরীয়তপুরের সখিপুরে কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় ছয় মেয়ের নামে জমি লিখে দেওয়ার জেরে আব্দুর ছাত্তার খান নামের এক স্ট্রোকের রোগীর বসতঘরে তালা মেরে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন ভাই, ভাতিজা ও ভাগিনার বিরুদ্ধে।
শুধু তালা ঝুলিয়েই ক্ষান্ত হননি অভিযুক্তরা, ভুক্তভোগীর রান্নার চুলো ভেঙে ফেলা এবং বসতবাড়ির গাছ কেটে চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে সখিপুর থানার ডিএমখালী ইউনিয়নের ডিএমখালী বাজার সংলগ্ন মাঝিকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অসহায় ওই বৃদ্ধ বর্তমানে নিজের ঘরের সামনে মাটিতে বিছানা পেতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ডিএমখালী মাঝিকান্দি এলাকার বাসিন্দা আব্দুর ছাত্তার খানের কোনো পুত্রসন্তান নেই, কেবল ছয় মেয়ে রয়েছে। সম্প্রতি তিনি তার মালিকীয় জমি ওই ছয় মেয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে লিখে দেন। গত মাসে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য এক মেয়ের বাড়িতে যান। এর মধ্যে জমি লিখে দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হন তার ভাই মোস্তফা খান, ভাতিজা ইমরান খান ও ভাগিনা এনামুল শিকদার।
পরিবারের অভিযোগ, জমি লিখে দেওয়ার আক্রোশে অভিযুক্তরা আব্দুর ছাত্তার খানের ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন, রান্নার চুলো ভেঙে ফেলেন এবং বাড়ির গাছপালা কেটে নিয়ে যান। এমনকি কাটা গাছের গুঁড়িগুলো ঘরের সামনে স্তূপ করে রেখে চলাচলের পথ ও দরজায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে তালা মারা দেখতে পান ওই বৃদ্ধ। স্ট্রোকের কারণে শারীরিকভাবে চলাচলে অক্ষম হওয়ায় বর্তমানে তিনি ঘরের সামনে খোলা আকাশের নিচে মাটিতে বিছানা পেতে শুয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
এদিকে অভিযুক্ত মোস্তফা খান জমি সংক্রান্ত আক্রোশের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর ছাত্তার বাড়িতে না থাকায় ঘরে চুরির ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কায় সুরক্ষার জন্যই মূলত ঘরে তালা মারা হয়েছে।
এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, ঘটনাটি মাত্রই জানতে পারলাম। দ্রুত খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পড়ুন : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: টুকু


