ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো যখন নতুন প্রজন্মের সামনে আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়ায়, তখনই সার্থক হয় তারুণ্যের রাজনৈতিক পথচলা। সেই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রকৃত গুরুত্ব ও তাৎপর্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং তাদের মাঝে সুস্থ রাজনৈতিক চেতনা ছড়িয়ে দিতে নেত্রকোনায় আলোচনা সভা করেছে জেলা ছাত্রদল।
রবিবার (৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহাবুব চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক নূরুজ্জামান নূরু। এ সময় মঞ্চে ও দর্শকসারিতে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয় জীবনে দিনটির সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, একটি জাতির টিকে থাকার লড়াইয়ে ইতিহাসের সঠিক পাঠ অত্যন্ত জরুরি। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে তরুণরা শেকড়ের সন্ধান পায় এবং সঠিক রাজনৈতিক চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলতে পারে।
বক্তাদের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়টি। নেতারা উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির কোনো বিকল্প নেই। ৭ নভেম্বরের মূল সুরই ছিল জাতীয় ঐক্য ও সংহতি, যা আজকের প্রেক্ষাপটেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
সভায় উপস্থিত ছাত্রনেতারা কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। দেশ ও মানুষের সার্বিক কল্যাণে ছাত্রসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, সচেতন ও দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজই পারে সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে।
পড়ুন : দেড় ডজন হতদরিদ্রের ঘর নির্মাণ করলেন মানবিক মামুন


