টাঙ্গাইলে কৃষি জমি জবরদখল ও এলজিইডি’র রাস্তা নির্মাণের অপচেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে লাউহাটি ইউনিয়নের হেরওপাড়া গ্রামে ব্যক্তি মালিকানাধীন কৃষিজমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক এলজিইডির রাস্তা নির্মাণের অপচেষ্টা, জমি দখলের পাঁয়তারা এবং হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সেলিম রেজা।

সেলিম রেজা বলেন লাউহাটি মৌজায় আমাদের চার ভাইয়ের নামে ১০৬ শতাংশ কৃষিজমি রয়েছে। যার রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, খতিয়ান, পর্চা, নামজারি এবং নকশাকার্ডসহ যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আমরা সেখানে চাষাবাদ করে আসছিলাম। আমাদের জমির এক পাশে একটি পরিবারের যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই একটি পায়ে হাঁটার সরু পথ ছিল। তাছাড়া ওই পরিবারের নিজস্ব গাড়ি চলাচলের উপযোগী আরও একটি প্রশস্ত বিকল্প রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই আমাদের কৃষিজমির মাঝ দিয়ে নতুন করে এলজিইডির রাস্তা নির্মাণের আইডি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে আমরা জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দপ্তরে লিখিত আবেদন করি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলজিইডি’র সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সরেজমিন তদন্ত করা হয় এবং ওই রাস্তার আইডি বাতিলের সুপারিশসহ দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে আইডিটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আইডি বাতিলের পরও একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমার রোপণ করা মেহগনি, সেগুন ও ফলদ গাছ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক পিয়ন ও গ্রাম পুলিশ দিয়ে উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এলাকার এক মেম্বারের মাধ্যমে জোরপূর্বক জমিতে মাটি ফেলার কাজ করা হয় এবং বাধা দিতে গেলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সচিবালয় ও এলজিইডির প্রেরিত সরকারি চিঠি ও আইডি বাতিলের নথিপত্র দেখালেও সেগুলোকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সালিম রেজা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমরা কারো জমি দখল করতে চাই না, সংঘাতও চাই না। আমরা শুধু আমাদের বৈধ সম্পত্তির অধিকার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং এই হয়রানির নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী নাগরিক টিভিকে বলেন, আম কিংবা আমার অফিসের কেউ এ জড়িত নয়। আইনঅনুযায়ী আমরা সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবো।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ৩ জনকে হাতেনাতে ধরল পুলিশ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন