মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ১৭০০, নিখোঁজ ৩০০

0
160
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান জ্যেষ্ঠ জেনারেল মিন অঙ হ্লাইং জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে প্রায় ১৭০০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

রোববার তিনি আরও জানান, এ ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় ৩৪০০ জন আহত হয়েছেন আর ৩০০ জনের মতো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের পার্শ্ব ঘর্ষণে উৎপত্তি হওয়া এ ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান প্রধান সেতু ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে দুর্যোগপূণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় মানবিক ত্রাণ পাঠানো যাচ্ছে না বলে শনিবার জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের হাসপাতালগুলো ভূমিকম্পে আহত লোকজনের স্রোতের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারছে না। পাশাপাশি রক্তের ব্যাগ, চেতনানাশক ও অন্যান্য ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

শনিবার রাতে রাজধানী নেপিদোর উদ্বিগ্ন বহু বাসিন্দা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বাড়ির বাইরে খোলা আকাশের নিচে ঘুমিয়েছেন। ভূমিকম্পের পরাঘাত হওয়ার শঙ্কায় ভুগছেন তারা।

বিবিসি জানিয়েছে, নেপিদোর বাসিন্দারা খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী আশ্রয় বানিয়ে সেগুলোতে ঘুমিয়েছেন।

দরিদ্র, গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারে গত ২০ বছরের মধ্যে এত তীব্র ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আর দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন ভূমিকম্প-বিশেষজ্ঞরা।

ভূমিকম্পের পর থেকে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদো, মান্দালয় অঞ্চলসহ ছয়টি এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

শুক্রবারের ভূমিকম্পটি গত শতাব্দীতে দেশটিতে হওয়া ভূমিকম্পগুলোর তুলনায়ও বেশি শক্তিশালী ছিল। চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে এই ভূমিকম্পের ধাক্কায় মিয়ানমারের স্থবির অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গৃহযুদ্ধের কারণে আগে থেকেই দেশটির লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন, এখন ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সংকট আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পড়ুন : ভূমিকম্পে মিয়ানমারে ধসে পড়ল ব্রিটিশ আমলের সেতু

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.