বিজ্ঞাপন

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদির 

গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের যেকোনো প্রস্তাবকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান শুক্রবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’-এর সাইডলাইনে গাজা কন্টাক্ট গ্রুপের বৈঠকে এই বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, “গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক স্থানান্তরের যেকোনো প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে, তা যে অজুহাতেই হোক না কেন।” সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো স্লোগানের অধীনে গাজা থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের বাস্তুচ্যুতি আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি।”

প্রিন্স ফয়সাল এই ধরনের পরিকল্পনাকে অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক বলে অভিহিত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের পরিভাষা গ্রহণযোগ্য নয়। যখন ফিলিস্তিনিরা জীবনের সবচেয়ে মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, তখন স্বেচ্ছায় অভিবাসনের কথা গ্রহণযোগ্য নয়।”

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজাবাসীদের সরিয়ে অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাদের এই পরিকল্পনাকেই সৌদি আরব খারিজ করে দিয়েছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “যুদ্ধবিরতি চুক্তির সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রবেশকে কোনোভাবেই মিলিয়ে দেখা উচিত নয়। মানবিক সহায়তা একটি মৌলিক অধিকার।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরবরাহ যেন কোনো বাধা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গাজায় প্রায় দেড় মাস ধরে পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে ইসরায়েল।

এতে করে গাজার জনগণ খাদ্য, পানি, ওষুধসহ ন্যূনতম মানবিক সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ক্রমাগত এই সংকটের বিরুদ্ধে কথা বলছে।

এডিএফ সম্মেলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও সৌদি আরবের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। বৈঠকে গৃহীত যৌথ বিবৃতিতে পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীর থেকে কোনো ফিলিস্তিনিকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়। এছাড়া এই অঞ্চলগুলোকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি অথরিটির (PA) অধীনে একীভূত করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে সৌদি আরব, কাতার, মিসর, তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ অংশ নেয়। গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে এ দেশগুলো ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

সম্মেলনের শেষাংশে প্রিন্স ফয়সাল আবারও জোর দিয়ে বলেন, ৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি ছাড়া এই সংকটের কোনো মানবিক সমাধান নেই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই সক্রিয় হতে হবে।”

পড়ুন: ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক দিনে নিহত ২৬

দেখুন: রকেট ছুড়ে ই/স/রা/য়ে/ল/কে জবাব দিচ্ছে হা/মা/স, হাই অ্যালার্টে ই/রা/নের সেনাবাহিনী |

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন