উত্তর আফ্রিকার দেশ সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহরে আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)–এর নির্বিচার হামলায় ৩০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন।
সোমবার ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপি স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের মতে, রোববার এল-ফাশের শহরের একটি আবাসিক এলাকায় আরএসএফ এই হামলা চালায়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে দেশটির সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এই সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দেশের কিছু অংশ, অন্যদিকে আরএসএফ দখল করে রেখেছে খার্তুমের উত্তরাঞ্চল ও রাজধানীর কিছু এলাকা। এই দ্বন্দ্বের ফলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংঘর্ষে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আরএসএফের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন এবং নারীদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানোর অভিযোগও উঠেছে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটি জানিয়েছে, এই সহিংসতার ফলে সুদানে বর্তমানে সর্বকালের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ জানায়, গেলো সপ্তাহেও এল-ফাশের শহরে নতুন করে হামলা চালিয়েছে আরএসএফ। শহরের আশেপাশের জামজাম ও আবু শোউক শরণার্থী শিবিরে হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৪০০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ। এক সপ্তাহ ধরে চলা এই হামলায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ৪ লাখ মানুষ।
এল-ফাশের, যা উত্তর দারফুরের রাজধানী, এখনো সম্পূর্ণভাবে আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তবে শহরটি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আরএসএফ হামলা চালিয়ে আসছে। শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব ও আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোর অবস্থানের কারণে এটি হয়ে উঠেছে সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই সহিংসতা বন্ধের সম্ভাবনা নেই। সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে হলে দুই বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তিপূর্ণ সমঝোতার উদ্যোগ নিতে হবে।
পড়ুন: সুদানে আধাসামরিক বাহিনীর হামলায় ২০ শিশুসহ নিহত শতাধিক
দেখুন: ভয়ংকর ‘জী*বাণু বো*মা’র হুমকি*র মুখে সুদান |
ইম/


