আজ শনিবার (৩ মে) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশ। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি, যেখানে দেশব্যাপী থেকে আসা হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন।
সমাবেশের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—২০১৩ সালের শাপলা চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ‘গণহত্যার’ বিচার, ফ্যাসিবাদের আমলে দায়েরকৃত সব ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার, নারী অধিকার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাতিল ও কমিশন বিলুপ্তি, সংবিধানে প্রস্তাবিত বহুত্ববাদ বাতিল, আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস পুনর্বহাল, এবং ফিলিস্তিন ও ভারতে মুসলিম জনগণের ওপর নিপীড়ন বন্ধ করা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। এতে বক্তব্য দিচ্ছেন দেশের শীর্ষ ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা।
সমাবেশ উপলক্ষে বিশাল মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে এবং সকাল থেকেই রাজধানীজুড়ে বাড়তে থাকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানী ও এর বাইরের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নেতাকর্মীদের জন্য নির্ধারিত তিনটি পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখান থেকে সুশৃঙ্খলভাবে তারা সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই সমাবেশের ঘোষণা দেন। আরেক যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক জানিয়েছেন, সারা দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বাসে মানুষ সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন।
শুক্রবার (২ মে) বিকেলে সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা কর্মসূচি সফল করতে দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব দাবি পূরণ না হলে ঢাকাসহ সারা দেশ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
হেফাজতের নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এই মহাসমাবেশ সরকার ও প্রশাসনের দৃষ্টিগোচরে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
পড়ুন: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে এনসিপির বিক্ষোভ সমাবেশ
দেখুন: ৫ দফা দাবিতে হেফাজতের মহাসমাবেশ শনিবার
ইম/


