ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়। দখলদার ইসরায়েল সেখানে একের পর এক বিশুদ্ধ পানির স্থাপনা ধ্বংস করে চলেছে। জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরায়েল এই পানিকে এক ধরনের “নীরব বোমা” হিসেবে ব্যবহার করছে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১০ মে) তুরস্কের আনাদুলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস টু সেফ ড্রিংকিং ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশনের বিশেষ প্রতিবেদক পেদ্রো আরোজো-আগুদু বলেন, “গাজার ৭০ শতাংশ পানি সরবরাহ স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। বিশুদ্ধ পানি না থাকায় গাজাবাসী প্রতিনিয়ত পানিশূন্যতা ও পানিবাহিত রোগে ভুগছে।” তিনি আরও বলেন, “এটি এমন এক অস্ত্র, যা নীরবে কাজ করে, কিন্তু ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।”
পেদ্রো জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বর্তমানে প্রায় ২১ লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। এদের বড় একটি অংশ বিশুদ্ধ পানির জন্য চরম সংকটে রয়েছে। গড়ে একজন গাজাবাসী দিনে পাচ্ছেন মাত্র ৫ লিটার পানি, অথচ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন ১০০ লিটারের মতো। পেদ্রোর মতে, সরবরাহ করা এই সামান্য পানির বড় অংশই পানের অযোগ্য ও লবণাক্ত।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পানি, বিদ্যুৎ, খাদ্যসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ঢুকতে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। বিদ্যুৎ না থাকায় কূপ বা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকেও পানি তোলা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে রোগবালাই বাড়ছে ভয়াবহ হারে।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যমতে, গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই গাজায় ৭০ হাজার শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছিল পাঁচ বছরের নিচে। পেদ্রো বলেন, “শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম। বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা দ্রুত আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, কলেরার মতো প্রাণঘাতী রোগে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েল কেবল হামাস বা সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে এসব করছে না, বরং সাধারণ জনগণকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। তারা পানিকে যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।” পেদ্রো এটিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, শনিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ৫২ হাজার ৮১৪ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৭৩ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই নিহত হয়েছেন আরও ২৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১২৪ জন।
এদিকে, গাজায় ত্রাণ বিতরণের একটি নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আমিরাতের এই প্রত্যাখ্যান ইসরায়েলের কৌশলগত উদ্যোগে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা ইতিমধ্যেই চলমান রয়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস ও জিম্মিদের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই পানি অবরোধ এবং অবকাঠামো ধ্বংস কেবল সাময়িক প্রতিরোধ নয়, বরং তা একটি পরিকল্পিত মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার কৌশল। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গাজা উপত্যকায় বসবাস অযোগ্য হয়ে উঠবে বলেও সতর্ক করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
পড়ুন: আলমডাঙ্গায় অস্ত্র-গুলি, পুলিশ পোশাক, ইয়াবা ও ডাকাতির সরঞ্জামসহ ৬ ডাকাত গ্রেফতার
দেখুন: ভারত-পাকিস্তান যু/দ্ধ, ট্রাম্পের চোখে অস্ত্র বাণিজ্য
ইম/


