নয়াদিল্লিকে সংলাপের প্রস্তাব দিলেন শেহবাজ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কাশ্মির, নদীর পানি বণ্টনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতকে বিস্তৃত সংলাপে বসার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘‘আমরা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সংলাপে বসতে চাই। কাশ্মির এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে এবং এর পর দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যৌথ তৎপরতা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।’’

বিজ্ঞাপন

রাজনীতি-কূটনীতিকে একপাশে রেখে তিনি আরো বলেন, ‘‘যদি যুদ্ধ উসকে ওঠে, তা হলে দুই দেশের জন্যই সীমাহীন যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে না।’’ প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ দাবি করেন, ‘‘মুখোমুখি যুদ্ধে জয়লাভ করা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য নয়, শান্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চাই।’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘বিশ্বের যেসব দেশ সন্ত্রাসবাদের বিস্তার থেকে সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে, পাকিস্তান তাদের মধ্যে অন্যতম। আমরা গত কয়েক দশকে ৯০ হাজারের বেশি প্রাণ হারিয়েছি, এবং আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৫ হাজার কোটি ডলার।’’

পাকিস্তান-ভারত উত্তেজনা
এই প্রসঙ্গে শেহবাজ শরিফ ভারতের সামরিক অভিযানের পাল্টা ‘অপারেশন বুনিয়ান উন মারসুস’ পরিচালনার কথা উল্লেখ করেন। গত ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে। হামলার দায় স্বীকার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)। এর ফলে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, যেমন সিন্ধু নদীর পানি বণ্টনচুক্তি বাতিল এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানও ভারতের জন্য আকাশসীমা বন্ধসহ ভিসা বাতিল করে।

এমন উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান এবং ভারত গত ৭ মে সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক অভিযানে ৫১ জন নিহত হয়, যার মধ্যে ১৩ জন সেনা সদস্য এবং বাকিরা বেসামরিক ছিল। পাকিস্তান পাল্টা ‘অপারেশন বুনিয়ান উন মারসুস’ পরিচালনা করে, যার ফলস্বরূপ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫ জন সদস্য এবং ১৬ জন বেসামরিক নিহত হয়।

শান্তির পথে এগোনোর আহ্বান
শেহবাজ শরিফ বলেন, ‘‘যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি, তবে শান্তি আমাদের আসল লক্ষ্য। আমরা চাই ভারত-পাকিস্তান এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীর মতো বসবাস করুক, যেখানে সব মানুষ সমৃদ্ধি ও প্রগতি লাভ করবে।’’

তিনি সতর্ক করে দেন, ‘‘যদি দুই পরমাণু শক্তিধর দেশ যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে এ অঞ্চলের ১৬০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যুদ্ধের আগের কারণগুলি আর কোনো দিন বর্ণনা করার সুযোগ থাকবে না।’’

যুদ্ধবিরতি
গত ১০ মে থেকে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা সাময়িকভাবে উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়েছে।

ইয়োম-ই-তাশাকুর অনুষ্ঠান
শেহবাজ শরিফ শুক্রবার রাজধানী ইসলামাবাদে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর আয়োজিত ‘ইয়োম-ই-তাশাকুর’ (ধন্যবাদজ্ঞাপন) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির, এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর, নৌবাহিনী প্রধান চিফ অ্যাডমিরাল নাভিদ আশরাফসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি দেশের সামরিক বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের তৎপরতার প্রশংসা করার জন্য আয়োজন করা হয়।

পড়ুন: ওড়িশায় বজ্রপাতে একদিনে নিহত ৯

দেখুন: কাকরাইলে এস এ পরিবহনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে |

ইম/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন