বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নরওয়ের অসলোতে বসবাসকারী জয়া খন্দকার একজন আন্তর্জাতিক অনুবাদক। ২০২০ থেকে লেখালেখি করেন তিনি। প্রথম লেখা শিশুতোষ গল্প “অদ্ভুত ভূতং” তাঁকে শিশু সাহিত্যিক হিসেবে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে এরপর আসে তাঁর দ্বিতীয় বই “কিষাণের সুন্দরবন” যা মূলত একটি কিশোর উপন্যাস। বই দুটি প্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রকাশনী বাতিঘর ও সময় প্রকাশন।
জয়ার মেধায় আশ্বস্ত হয়ে নরওয়েজিয়ান ব্যাতিক্রমী লোকসাহিত্যিক বিরগিত্তা ভারস্তাদ তাঁর প্রকাশিত “গ্লিস্মেরসভিপেন” শিরোনামের বইটি জয়াকে বাংলায় অনুবাদ করতে আমন্ত্রণ জানান।
মূলত এটি নরওয়েজিয়ান লোককাহিনী ভিত্তিক চল্লিশ অধ্যায়ে সজ্জিত একটি রূপকথার সংকলন যেখানে লেখিকা “মিরা গ্রাসদালেন” নামে একটি ছোট্ট মেয়ের সাহসী সব ঘটনার উল্লেখ করেছেন। বিশেষ বৈশিষ্ট্য নির্ভর এই মেয়েটি এবং তার জীবনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার আবর্তনকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে “গ্লিস্মেরসভিপেন”র টানটান উত্তেজনার প্রতিটি দৃশ্যপট। নরওয়েজীয় লোককথা ভরপুর রহস্যময় সব চরিত্র, কল্পনাময় প্রকৃতি আর একধরনের গল্প বলার ঐতিহ্য যা প্রকৃতি ও প্রাচীন রীতিনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
বইটি পড়বার পর জয়া তাৎক্ষনিকভাবেই সিদ্ধান্ত নেন একে অনুবাদ করবার। নরওয়েজিয়ান ভাষায় ভীষণ পারদর্শী জয়া বেশ নান্দনিকভাবেই সম্পন্ন করেন বইটির অনুবাদের কাজ যা সমাদৃত হয় এর লেখিকা বিরগিত্তা ভারস্তাদের কাছেও। সকল জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিয়ে ২০২৫ এর অমর একুশের বইমেলায় পুঁথি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় “গ্লিস্মেরসভিপেন”র প্রথম মুদ্রণ। সাড়া ফেলে পাঠক মহলে বিশেষ করে যারা লোকগাঁথা পড়তে ভালোবাসেন।
এ বিষয়ে জয়ার কাছে তাঁর অভিব্যাক্তি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “লেখা আমার কাছে দৈনন্দিন প্রতিটি কাজের মতনই একটি অভ্যেস। প্রাত্যহিক জীবনে কোনো ব্যস্ততাই লেখাকে আমার কাছ থেকে আলাদা করতে পারেনি। প্রতিনিয়ত নিজেকে আমি আবিষ্কার করি আমার এই লেখার মাধ্যমেই।
নিঃসন্দেহে ” গ্লিস্মেরসভিপেন”কে ভাষান্তর ও অনুবাদ করতে পারায় আমি আনন্দিত। এটি আমার লেখালেখির ক্যারিয়ারে একটি নূতন মাত্রা যোগ করলেও এর মান বিচারের দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমার পাঠকের উপর রইলো।”
স্বভাবে নিভৃতচারী জয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনুবাদক হিসেবে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করবেন এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। তাছাড়া জয়ার মৌলিক কাজের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকবে একইভাবে কারণ তিনি লেখাকে নিজের অক্সিজেন মনে করেন।
জয়া খন্দকার গ্র্যাজুয়্যাশন করছেন “অসলো মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়’র “পাঠাগার ও তথ্যবিজ্ঞান” বিষয়ে। এখানে পড়াশোনার আগে তিনি সেখানকারই “যুক্ত ছিলেন নরওয়ের পরিবেশবাদী রাজনৈতিক দল “গ্রিন পার্টি”র লোকাল বোর্ড মেম্বার হিসেবে। সব মিলিয়ে তাঁর রয়েছে এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবন।
পড়ুন: ছড়া ও গল্প প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করল কোয়ান্টাম
দেখুন: অঙ্কে ফেল, পারেননি ইংরেজিও ক্লাস ফাইভের পরীক্ষায় কাবু ব্রিটিশ এমপিরা
এস


