স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর কাজ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি।
মঙ্গলবার (১০ জুন) ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে হাকাবিকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কিনা? জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তা মনে করি না।’
হাকাবির মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের গাজা দখলের প্রস্তাবের বিষয় উল্লেখ করেছে। গাজা নিয়ে ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবে আরব রাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠেছিল।
হাকাবির মন্তব্য মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত কিনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস মঙ্গলবা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে নীতি নির্ধারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের নিজস্ব বিষয়।
কট্টর ইহুদিবাদী কূটনীতিক হাকাবি আগে থেকেই ‘গ্রেটার ইসরাইল’ ধারণার প্রবল সমর্থক। তিনি দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইলের স্থায়ী কর্তৃত্ব চান।
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করা উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্র এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে কি না, জানতে চাইলে আরকানসাসের সাবেক গভর্নর হাকাবি বলেন, ‘আমি বলছি না, কখনোই হবে না। আমি বলছি, এ নিয়ে সংস্কৃতিগত পরিবর্তন ঘটতে হবে।’ তিনি বলেন, সম্ভবত আমাদের জীবদ্দশায় এগুলো ঘটবে না।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ব্যাপারে অনেক অনীহা দেখিয়েছেন, যদিও এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে দীর্ঘদিনের নীতি। ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে এই বিষয়ে কী অবস্থান নেন তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হাকাবি বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের কথা ভাবা হলে তা যেন ইসরাইলের কোনো ভূখণ্ড ছাড়াই হয়। তিনি এমনকি প্রস্তাব দেন, ‘একটি মুসলিম দেশের’ কিছু অংশ নিয়ে সেই রাষ্ট্র গঠন করা যেতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে মাইক হাকাবি বলেন, ‘মুসলিম দেশগুলোর মোট ভূমির পরিমাণ ইসরাইলের চেয়ে ৬৪৪ গুণ বেশি। সুতরাং যদি সত্যিই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের এত আগ্রহ থাকে, তাহলে হয়তো কেউ বলবে-আমরা এর জন্য জায়গা দিতে চাই।’
পড়ুন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পরিদর্শনে সাবেক ২ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
এস


