উত্তর আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আসা অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ গ্রিস। বুধবার দেশটির সরকার নতুন এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়েছে।
গত কয়েক দিনে লিবিয়া থেকে নৌকায় করে গ্রিসের দক্ষিণের দ্বীপ গাভদোস এবং ক্রিটে দুই হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছেছেন। এই বিষয়ে বুধবার গ্রিক পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস। এ সময় বর্তমান অবস্থাকে ‘জরুরি পরিস্থিতি’ হিসাবে অভিহিত করেন তিনি। কিরিয়াকোস বলেছেন, এমন পরিস্থিতি ‘স্পষ্টতই জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি রাখে।’
তিনি বলেন, আর তাই গ্রিক সরকার উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াকরণ প্রাথমিকভাবে তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই স্থগিতাদেশ শুধু ক্রিট এবং গাভদোস দ্বীপে আগতদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলেও জানিয়েছেন গ্রিক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনিয়মিতভাবে আসা অভিবাসীদের আটক করা হবে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয় স্থগিতাদেশ কার্যকর সম্পর্কিত আইনটি বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে।
গাভদোসে স্থায়ী জনসংখ্যা মাত্র একশ। দ্বীপটিতে অভিবাসীদের জন্য কোনও আবাসন সুবিধা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পাশ্ববর্তী দ্বীপ ক্রিটও।
লিবিয়া থেকে যাত্রা করা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সুদান, মিশর এবং বাংলাদেশের নাগরিক।
গ্রিক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকার মানবপাচারকারীদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়, গ্রিসে যাওয়ার দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বুধবার ৫২০ জন অভিবাসীকে নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলারকে ক্রিট উপকূলে পৌঁছায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, নৌকাটি লিবিয়া থেকে যাত্রা করেছিল।
মিতসোতাকিসের সরকার ক্রিটে একটি আটককেন্দ্র নির্মাণের কথাও ভাবছে। গ্রিস ইতোমধ্যে বলেছে, সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের থামাতে দক্ষিণ গ্রিক জলসীমায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েন করা হবে।
পড়ুন: ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে ঢুকলেন ১২০০ অভিবাসী
এস/


