পাকিস্তানি অভিনেত্রী হুমাইরা আসগরের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে মঙ্গলবার (৮ জুলাই)। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে হুমাইরার মরদেহ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবার অভিনেত্রীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। এ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন হুমাইরার ভাই নাভিদ আসগর।
তিনি বলেন, বোনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার একই সময়ে আমাদের আরও একজন আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর পাই। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। সে দুঃখ বুকে নিয়েই লাহোর থেকে করাচি এসেছিলাম বোনের লাশ নিতে। পুলিশ জানায়, ডিএনএ ম্যাচিংয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। সে প্রক্রিয়া এখনও চলমান। তাই লাশ পাইনি। অথচ সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক খবর ছড়ানো হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নাভিদ বলেন, আমার বোন স্বাধীনচেতা নারী ছিলেন। তিনি আমাদের ছেড়ে করাচিতে দীর্ঘ ৭ বছর থেকেছেন। মাঝে মাঝে বাড়ি আসতো। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও ছিল। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর সে বাড়িতে আসেনি। গত ৬ মাস ধরে তার ফোনের সুইচ অফ পাচ্ছি। গত এক বছরে আমার মায়ের সাথেও কোনো যোগাযোগ হইনি। অন্য নাম্বারের মাধ্যমেও ওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চেয়েছি, কিন্তু ব্যর্থ হই।
সন্দেহ প্রকাশ করে অভিনেত্রীর ভাই বলেন, জানতে পেরেছি বোনের পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশী দীর্ঘ সময় ফ্ল্যাটে ছিলেন না। কয়েক মাস আগে ফিরেছেন। কিন্তু মৃত লাশের দুর্গন্ধ তারা পাননি। ফ্ল্যাটে কীভাবে আমার বোন মরে গেল সে তদন্ত প্রয়োজন। এত বড় বাড়িতে সিসি ক্যামেরা নেই। ভাড়াটিয়াদের নিরাপত্তার খাতিরে সিসি ক্যামেরা থাকা প্রয়োজন ছিল বলে আমি মনে করি।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হুমাইরা আসগরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। যা থেকে জানা যায়, দুই সপ্তাহ নয়, বরং নয় মাস আগেই মারা গেছেন অভিনেত্রী।
গত ৮ জুলাই পাকিস্তানের ফেজ-৬ এর ইত্তিহাদ কমার্শিয়ালের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৮ সালে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন অভিনেত্রী। ফ্ল্যাটের ভাড়া যথাসময়ে মালিককে পরিশোধ করতেন তিনি। কিন্তু গত বছর নভেম্বর থেকে ভাড়া বন্ধ করে দেন।
এরপর ভাড়া না পেয়ে মালিকপক্ষ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ক্লিফটনে (সিবিসি) একটি মামলা করেন। ৮ জুলাই আদালতের নিযুক্ত একজন বেলিফ মামলার আদেশ কার্যকর করতে এসে ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙেন। এরপরই ফ্ল্যাটের ভেতরে অভিনেত্রীর গলিত মরদেহ দেখতে পান।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিনেত্রী অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া দেয়া বন্ধ করেন কারণ তার আগেই তিনি মারা গেছেন। ময়নাতদন্তে হুমাইরার গলিত টিস্যুও তাই বলছে। এছাড়া তদন্তকারীরা মেঝেতে পড়ে থাকা খাবার, মরিচা পড়া পানির পাইপ পরীক্ষা করেও নিশ্চিত হয়েছেন যে ৯ মাস আগেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রীর। কিন্তু কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। সে তথ্য পেতে এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে করাচি পুলিশ।
পড়ুন : ফ্ল্যাট থেকে অভিনেত্রীর গলিত মরদেহ উদ্ধার


