অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের মাস। প্রলেপ দেয়া পরিবর্তন নয়, নতুন করে গড়তে হবে দেশ। গভীর সংস্কার না হলে স্বৈরাচার আবারও চলে আসতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, সরকারের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সংস্কার কর্মসূচির পাশাপাশি, দায়ীদের আইনি জবাবদিহিতা আনার কাজ করছে সরকার।
দমন, নীরবতা বা ধ্বংস করার জন্য জনগণকে আর কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে সে চেষ্টাই চলছে-বলে জানিয়েছে অন্তবর্তী সরকার প্রধান প্রফেসর ড.মুহাম্মদ ইউনুস।
প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতিসংঘ আমাদের উত্তরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এই বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ সফরের জন্য সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে তার অটল সমর্থন এবং সংহতি প্রকাশে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সরকার প্রধান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন জুলাই আমাদের পুন:জন্মের মাস। এটা শুধু স্বৈরাচার বিদায়ের মাস নয়। এখনো সুযোগ আছে এই দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার।
অন্যদিকে, লিখিত বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংস্কার কর্মসূচির পাশাপাশি আমরা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি। কিন্তু বিচার মানে শুধু শাস্তি নয়—বিচার মানে এই নিশ্চয়তা প্রদান করা যে, রাষ্ট্রক্ষমতা আর কখনো জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার হবে না।
রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য গড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। বলেন, এই ঐকমত্য এমন একটি ব্যবস্থাকে নিশ্চিৎ করবে যা অন্তর্ভুক্তিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি বাংলাদেশ গঠন করা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক শান্তিতে, মর্যাদায়, গর্বে ও স্বাধীনতায় বাঁচতে পারে।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সংকট পর্যন্ত, এমনকি গত বছরের জুলাই-আগস্টের সংকটকালীন সময়েও জাতিসংঘ সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা।
পড়ুন : নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার


