32.3 C
Dhaka
০৭/০৩/২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বিএনপি নেতা মোস্তফার এনআইডি কেন বাতিল হয়নি জানতে চান হাইকোর্ট

তথ্য গোপন করে ভারতীয় নাগরিক কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা জাতীয় পরিচয় পত্র এনআইডি কার্ড কেন অবৈধ হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি এসকে তাহসিন আলী সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ ১৯ আগস্ট ২০২৫ তারিখে এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সচিব নির্বাচন কমিশন, বিভাগীয় কমিশনার রংপুর, রেজিস্টার জেনারেল ঢাকা, ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট কুড়িগ্রাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর, মহা পরিচালক ন্যাশনাল আইডেন্টিটি,রেজিষ্ট্রেশন উইং ঢাকা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর, কেন তারা ভারতীয় নাগরিক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার জাতীয় পরিচয় পত্র (এন আই ডি) বাতিলের পদক্ষেপ নেয়নি তা আগামী ২৮ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে রুলে উল্লেখ্য, কুড়িগ্রামে তথ্য গোপন করে এক ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়ার অভিযোগ উঠায়। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. সহিদুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর)২০২৪ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর এ অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (৬৭)। তিনি ভারতের কুচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জ থানার খুবিরের কুটি (চৌধুরীর হাট) গ্রামের মোজাহারুল হক ও মোছা. কবিজন নেছার পুত্র বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোস্তাফিজার রহমান গত ১৯৭৬ সালে ভারতীয় এক হিন্দু রমণীকে নিয়ে ভারত থেকে পালিয়ে এসে কুড়িগ্রামে আশ্রয় গ্রহণ করেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পুলিশ তাদের আটক করে এবং আইনের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম জেলহাজতে প্রেরণ করেন। এতে প্রায় ৬ মাস জেল খাটেন তারা।

পরে রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় কুড়িগ্রামে বসবাস শুরু করেন। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি পদে ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি আহবায়ক।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. উমর ফারুক বলেন, মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ভারতীয় নাগরিক এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে দীর্ঘ সময় কুড়িগ্রামে কীভাবে আছেন। নাগরিকত্ব কীভাবে পেলেন তা আমার জানা নেই। তিনি দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ১৯৯৪ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মস্থান কুড়িগ্রাম উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তথ্য গোপনের শামিল। জন্ম নিবন্ধন সনদ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কোনো আইন নেই। কীভাবে এনআইডি কার্ড পেলেন তা নির্বাচন কমিশন বলতে পারবে।

তিনি আরও জানান, মোস্তাফিজার রহমানের এনআইডিতে উল্লেখ রয়েছে তার জন্মস্থান কুড়িগ্রাম, ঠিকানা দিয়েছেন কুড়িগ্রাম পৌরসভার হাসপাতাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা। আসলে আশির দশকে ডিজিটালাইজড না থাকায় তথ্য গোপন করে তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা হয়েছেন। তাছাড়া তিনি ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলখানায় জেল খেটেছেন। জেল কর্তৃপক্ষ থেকে কাগজপত্র সংগ্রহ করলে বিষয়টি খোলাসা হবে।

কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুর রহমান রানা বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল। মানবিক দিক বিবেচনা করে কুড়িগ্রামের মানুষ তার বসবাসে সহযোগিতা করেছে। তবে তিনি যে ভারতীয় নাগরিক এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।

নাগরিকত্ব ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমার মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার জন্য একটি মহল বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন আমার জাতীয় পরিচয়পত্র প্রমাণের জন্য প্রমাণাদি চাইলে আমি দিতে প্রস্তুত আছি।

কুড়িগ্রাম জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোনো মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য দেওয়া অথবা তথ্য গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধের শাস্তি অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ২০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

তথ্য গোপন করে এক ভারতীয় ব্যক্তি জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন মর্মে আমার দপ্তরে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে জনস্বার্থে ভারতীয় নাগরিক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার জাতীয় পরিচয় পত্র (এন আই ডি) বাতিল চেয়ে কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মাহবুব হোসেন মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করলে মহামান্য হাইকোর্ট উপরোক্ত রুল জারি করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কুড়িগ্রামে আফরোজা বেগম হত্যা: খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন