দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণের মৌসুম চলছে। মৌসুম শুরুর পর বিগত এক মাসে কাপ্তাই হ্রদ থেকে ১ হাজার ৮১৩ মেট্রিক টন মাছ বাজারজাত করা হয়েছে। বাজারজাতকৃত মাছ থেকে শুল্কহার হিসেবে ৪ কোটি টাকার অধিক আদায় করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদে কার্পজাতীয় মাছের পোনার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত, অবমুক্ত করা পোনার সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস কাপ্তাই হ্রদে মাছ শিকার বন্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় স্থানীয় প্রশাসন। চলতি মৌসুমে তিন মাসের নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা শেষেও বিএফডিসি প্রস্তুতির জন্য আরও ২ দিন বাড়িয়ে ২ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বর্ধিত করা হয়। ফলে ৩ আগস্ট থেকে হ্রদে মাছ আহরণ শুরু হয়। ৩ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম মাস হ্রদ থেকে মাহ আহরণ কর হলো। অনুকূল পরিবেশ থাকলে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে হ্রদে মাছ শিকার।
মৎস্য বিভাগের হিসাবে, রাঙামাটির রাজস্থলী ও কাউখালী উপজেলা ব্যতিত বাকি আট উপজেলা এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও মহালছড়ি উপজেলাসহ দুই জেলার ১০ উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার জেলে পরিবার কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্ভরশীল।
বিএফডিসির কর্মকর্তা ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি আহরণ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শুরুর দিকে অন্যান্য বছরের তুলনায় মাছ আহরণ কিছুটা কমেছে। জেলেরা মাছ শিকার কম করতে পারায় অবতরণও (ল্যান্ডিং) কমেছে বিএফডিসির বিপণনকেন্দ্রগুলোতে। তবে এবার কাপ্তাই হ্রদের মাছের শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করায় মাছের অবতরণ কমলেও শুল্কহার আদায় কিছুটা বেড়েছে। যদিও আহরিত মাছের মধ্যে ছোট প্রজাতির মাছের আধিক্যই ছিল বেশি।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে (২০২৫-২৬ অর্থবছরে) আগস্ট মাসজুড়ে ১ হাজার ৮১৩ মেট্রিক টন কাপ্তাই হ্রদের মাছ অবতরণ করা হয় রাঙামাটির প্রধান বিপণনকেন্দ্রসহ কাপ্তাই, মারিশ্যা ও খাগড়াছড়ির জেলা মহালছড়ি উপকেন্দ্রে। অবতরণ করা মাছের বিপরীতে ৪ কোটি ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৪ টাকা শুল্কহার আদায় করে বিএফডিসি। এর আগের মৌসুমে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাসে ১ হাজার ৯৪২ মেট্রিক টন মাছ অবতরণের বিপরীতে ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯১ হাজার ৬১৭ টাকা শুল্কহার আদায় করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে চলতি মৌসুমে শুল্কহার আদায় বেড়েছে।
কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন ও বিপণণকেন্দ্রের উপব্যবস্থাপক মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘চলতি আহরণ মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় বিগত মৌসুমের চেয়ে প্রথম মাসে মাছ আহরণ কিছুটা কম হয়েছে। জেলেরা হ্রদে পানি বাড়তি থাকা, উজানের ঢলের স্রোতসহ নানা কারণে মাছ কম শিকার করতে পারায় আমাদের বিপণনকেন্দ্রগুলোতেও ল্যান্ডিং (অবতরণ) কমেছে। তবে এবার হ্রদের মাছের শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ হওয়ায় শুল্কাহার আদায় বেড়েছে। প্রথম দিকের সময়টাতে হ্রদে পানি বেশি থাকলেও এতে করে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি থাকার সম্ভাবনা থাকায় মৌসুমজুড়ে মাছ আহরণ করা যাবে। এটি সামগ্রিকভাবে ভালো দিক।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

