বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকা হরতাল ও সড়ক অবরোধে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকে জেলা শহরসহ ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে গাছ, বেঞ্চ ও টায়ার ফেলে অবরোধ গড়ে তোলে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা। এতে অভ্যন্তরীণ ১৮ টি রুটসহ দূরপাল্লার সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে, সকাল আটটার দিকে আদালত চত্বর ও জেলা নির্বাচন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন অবরোধকারীরা। একই সঙ্গে দোকানপাটও বন্ধ রাখায় সাধারণ মানুষ ও যাত্রীরা পড়েন চরম দুর্ভোগে।
খুলনায় জরুরি কাজে যাওয়া এক যাত্রী কালাম শেখ বলেন, সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসেছি, কিন্তু কোনো গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাড়ি ফিরতে পারছি না।
আরেক যাত্রী আবু হানিফ জানান, স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য খুলনায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যানবাহন বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছি।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ মিছিল এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর) টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ঘোষণা দিয়েছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতসহ সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা।
এ ব্যপারে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম বলেন, বাগেরহাটের আসন কমানো অন্যায় সিদ্ধান্ত। জনগণের মতের বিরুদ্ধে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত মানা হবে না।
জেলা জামায়াত আমীর মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, আসন কমিয়ে বাগেরহাটের জনগণকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো আন্দোলন শুরু করে। জেলা নেতৃবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে, যেখানে বাগেরহাটে একটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন রাখা হয়।
পড়ুন: নুরাল পাগলের ঘটনায় প্রশাসন ও প্রশাসনের বাইরে কেউ জড়িত থাকলে তাদের ছাড় নয়
দেখুন: টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, ভেঙেছে বেড়িবাঁধ |
ইম


