একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যকার, নির্দেশক, সংগঠক, অভিনেতা ও সংঙ্গীতজ্ঞ এসএম সোলায়মানের জন্ম ও মৃত্যুকে স্মরণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘থিয়েটার আর্ট ইউনিট।’
সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে অুনষ্ঠিত হলো মিথস্ক্রিয় আলোচনা ও ‘এস এম সোলায়মান প্রণোদনা ২০২৫’। আলোচনার বিষয় ছিল পরিবর্তনের স্বপ্নে মঞ্চকর্মীর দায় ও বাস্তবতা এবং টিকে থাকার উপায়। এবারের এস এম সোলায়মান প্রণোদনা পদক ২০২৫ প্রদান করা হয় নাট্যকার নির্দেশক ও অভিনেতা মুক্তনীলকে।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে এস এম সোলায়মানের কথা ও সুরে সংগীত পরিবেশন করেন থিয়েটার আর্ট ইউনিটের নাট্যকর্মীরা। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নাট্যজন নায়লা আজাদ নূপুর, আজাদ আবুল কালাম, বাকার বকুল ও শামীমা শওকত লাভলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থিয়েটার আর্ট ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত দলপ্রধান সেলিম মাহবুব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন দলটির প্রধান সমন্বয়ক কামরুজ্জামান মিল্লাত।

বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রতিভাধর নাট্যজন এসএম সোলায়মানের জীবনটা ছিল খুব কম সময়ের। মাত্র ৪৮ বছর বেঁচে ছিলেন। নাটকে সংগীত সংযোজনে তিনি তৈরি করে গেছেন নতুন ধারা। ব্যঙ্গরস-স্যাটায়ারের মাধ্যমে সমকালীন রাজনীতি, গোঁড়ামী ও স্বৈরতান্ত্রিকতাকে বিদ্রূপ করেছেন। রাজনৈতিক স্যাটায়ার ধারার প্রচলন তার হাতেই শুরু হয় এবং সফলতা লাভ করে। প্রায় ৩০টির মতো নাটক রচনা ও রূপান্তর করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন তারও বেশি।
এসএম সোলায়মানের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- খ্যাপা পাগলার প্যাচাল, ইঙ্গিত, গণি মিয়া একদিন, আহ্ কমরেড, ইলেকশন ক্যারিকেচার, এই দেশে এই বেশে, কোর্ট মার্শাল,বার্থ ফ্যান্টাসি, গোলাপজান, আমিনা সুন্দরী প্রভৃতি। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের নির্বাচিত সেক্রেটারি জেনারেলের হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নির্দেশিত নাটক আমিনা সুন্দরী আমেরিকার অব ব্রডওয়েতে প্রথম বাংলা নাটক হিসেবে মঞ্চায়নের গৌরব অর্জন করে।
উৎসবের সমন্বয়ক কামরুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এস এম সোলায়মানের কর্মের মূল্যায়ন, তাঁর নামাঙ্কিত পদক প্রদান এবং তাঁর ভাব ও আদর্শের আলোকে আগামীর থিয়েটার চর্চার রূপরেখার পথ অন্বেষণ এবারের উৎসবের বড় প্রাপ্তি বলেই আমাদের অনুধাবন।
পড়ুন : সোমবার শিল্পকলায় মিথস্ক্রিয় আলোচনা ও এসএম সোলায়মান প্রণোদনা


