১০/০২/২০২৬, ১৫:১৭ অপরাহ্ণ
26 C
Dhaka
১০/০২/২০২৬, ১৫:১৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ইলিশ শিকারের অভিযোগ


ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মাছ ধরতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করে বরগুনার তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক মোঃ আবুল কাসেম রিঙ্কু ও তার বাবা উপজেলা আওয়ামীলীগ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জলিল ফকিরের বিরুদ্ধে সমুদ্রে ইলিশ মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সমুদ্র থেকে শিকার করা ইলিশ মাছ রিঙ্কুর নেতৃত্বে সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা বিপুল পরিমাণ ইলিশ মাছ আটক করে।
রবিবার (০৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ফকিরহাট মৎস্য অবতরন কেন্দ্রে।

জানাগেছে, সোনাকাটা গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক, ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাসেম রিঙ্কু ও তার বাবা উপজেলা আওয়ামীলীগ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক জলিল ফকিরের দুটি ট্রলার সরকারী নির্শেনা অমান্য করে নিষেধাজ্ঞার আগের দিন শুক্রবার রাতে ফকিরহাট মৎস্য অবতরন কেন্দ্র থেকে ইলিশ শিকারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রে যায়।

একাধিক জেলেদের অভিযোগ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইনের যোগসাজশে আওয়ামীলীগ নেতা জলিল ফকির ও তার ছেলে মৎস্য অফিসে কর্মকর্তা মাঠ সহায়ক রিঙ্কু সাগরে ইলিশ মাছ শিকার করেছেন। রবিবার দিবাগত গভীর রাতে ইলিশ মাছ নিয়ে ওই ট্রলার দুটি ফকিরহাট ঘাটে আসে। পরে ট্রলারের লোকজন ইলিশ মাছ ড্রামে ও বস্তায় ভরে রিঙ্কুর মৎস্য আড়তে রাখেন।

জেলে আমির হোসেন ও রুবেল বলেন, ‘ট্রলারের শব্দ পেয়ে মৎস্য ঘাটে এসে দেখি উপজেলা মৎস্য অফিসের মাঠ সহায়ক ছাত্রলীগ নেতা আবুল কাসেম রিঙ্কু ও তার বাবা আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল জলিল ফকিরের দুটি ট্রলারে অনেক ইলিশ মাছ। ট্রলারের জেলেরা ওই মাছ বস্তা ও ড্রামে ভরে রিঙ্কুর আড়তে নেয়। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে ওই মাছ রাতেই তাদের বাড়ীতে নিয়ে যায়।’

তারা আরও বলেন, ‘রিঙ্কু ও তার বাবা জলিল ফকির উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রভাবখাটিয়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমুদ্রে মাছ শিকার করছে? রক্ষক হয়েই তিনি ভক্ষকের ভুমিকা পালন করেছেন।’

আড়তের ম্যানেজার আল আমিন বলেন, এই মাছ অনেক আগের। তবে তাজা রক্ত মাখা মাছ আড়তে আসলো কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি নিরব থাকেন। তিনি আরও বলেন, রাতেই আড়ৎ থেকে মাছ সরিয়ে ফেলে হয়েছে।’

আবুল কাসেম রিঙ্কু বলেন, ‘আমার বাবার ইলিশ মাছের আড়ত ব্যবসা আছে। রাজনৈতিকভাবে হেনেস্থা করতেই আমাকে জড়ানো হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, আবুল কাসেম রিঙ্কু উপজেলা ছাত্রলীগ সহ সম্পাদক পদে আছেন। ২০২১ সালে সাবেক সাংসদ ধীরেন্দ্র বেনাথ শম্ভুর প্রভাব খাটিয়ে তিনি উপজেলা মৎস্য অফিসে মাঠ সহায়ক পদে চাকুরী নেন।

তালতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন ইলিশ শিকারের সঙ্গে তার জড়িতের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি নদীতে টহলে ছিলাম, তবে সোমবার সকালে শুনেছি আমার অফিসের মাঠ সহায়ক আবু কাসেম রিঙ্কু ও তার বাবার দুটি ট্রলারে সাগর থেকে ইলিশ মাছ শিকার করে ঘাটে এসেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার অফিসের কেউ অনিয়ম করলে আমি এর দায়ভার নেব না। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সংশ্লিষ্ট প্তরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বরগুনায় বিষখালি নদীর পেটে ফসলি জমি, বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন