সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম সিদ্দিকীকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ঢাকা মহানগরীর মিরপুর মডেল থানায় একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী আমিনুল ইসলামের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে, সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম ঘটনা ঘটার দিন তারা সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) কার্যালয়ে ওয়ারী জোন, যাত্রাবাড়ীর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে দায় করা অভিযোগের জবানবন্দি দিতে হাজির ছিলেন বলে দাবি করেছেন এবং এর প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে।
মিথ্যা মামলার অভিযোগ ও সাংবাদিকদের দাবি, মিরপুর মডেল থানায় আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির একটি মামলা (মামলা নং: ৫৫) দায়ের করেন। মামলায় বলা হয়, সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম ১৩/০৫/২০২৫ ইং তারিখে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে চাঁদাবাজি করেছেন।
তবে সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্রমূলক আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আমাদের কে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে।”
তারা দৃঢ়তার সাথে বলেন: মামলায় যে দিনে চাঁদাবাজির ঘটনা দেখানো হয়েছে, সেই দিন আমরা দুজন এসি ওয়ারী জোন সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম। আমার কাছে এর প্রমাণপত্র, সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য দাপ্তরিক রেকর্ড রয়েছে, যা আমাদের সেদিনকার অবস্থান নিশ্চিত করে।”এবং এই ব্যাপারে সাব-ইন্সপেক্টর মোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, ১৩/০৫/২০১৫ইং তারিখে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সাংবাদিক সানি হোসেন আর সাংবাদিক আশরাফুল আলম সিদ্দিকী আমার মিথ্যা অভিযোগের জবানবন্দি দিতে এসি ওয়ারী জোনের কার্যালয়ে ছিলো।
তারা জানান, যে স্থানটিকে ঘটনার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বিগত ২০২৫ সালে সেখানে যাননি। শুধু তাই নয়, মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম এবং অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের কাউকেই তারা চেনেন না এবং তাদের সাথে তার কোনোদিন দেখাও হয়নি।
সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম বলেন, “আমরা পেশাগত কাজে বাধা দিতে এবং একটি বিশেষ মহলের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করার প্রতিশোধ নিতেই এই ভুয়া ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনের নাম সংগঠনের নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, “সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা এখন একটি নিয়মিত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুইজন সাংবাদিক যেদিন এসি অফিসে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন, সেদিন তাদেরকে চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত করা প্রশাসনের প্রতিও একটি চ্যালেঞ্জ।”
তারা অবিলম্বে মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে বলেন, এসি অফিসের প্রমাণাদি যাচাই করে দ্রুত মামলাটি থেকে সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম কে অব্যাহতি দিতে হবে এবং হয়রানির জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
সাংবাদিক সানি হোসেন ও আশরাফুল আলম প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তাদের কাছে থাকা ঘটনার দিনের অবস্থানের প্রমাণগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। তারা আশা করেন, প্রশাসন সত্য উদঘাটন করে তাকে এই মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি দেবে।
পড়ুন : বিস্ফোরক আইনের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মির্জা ফখরুলসহ ২২ জন


