টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে রাকের টেকি পর্যন্ত ৪৬০ মিটার সড়কের পুনর্নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সব বিল স্থগিত করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী। একই সঙ্গে কাজটির তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন জানান, নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সব বিল স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীকে লিখিতভাবে শোকজ করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাজ শেষ হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের নতুন কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করেছে। কোথাও হাত দিলেই পিচ উঠে আসছে, আবার যানবাহন চলাচলের সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এতে নতুন নির্মিত সড়কটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনমনে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে কার্পেটিং করায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে নেমে আসা পানিতে ড্রেন উপচে সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই নতুন কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার তারেক খান বলেন, “বৃষ্টির কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই দায় শেষ হবে না। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি উন্নয়নকাজে গুণগত মান নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি জোরদারেরও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আরো বলেন,বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদারকে কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না। সম্পূর্ণ সড়কের কার্পেটিং তার নিজ অর্থায়নে পুনরায় করতে হবে। যদি সে পুনরায় না করে তাহলে তাকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কালো তালিকায়ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : মির্জাপুরে মাত্র দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার জন্য দুর্ভোগে হাজারো মানুষ


