ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নের ৮৯১টি প্রকল্পে প্রায় ২৪৮.৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২,১১০.৬ কোটি টাকা) দুর্নীতি হয়েছে, যা জাতীয় তহবিলের বরাদ্দের ৫৪ শতাংশের সমান।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে: জাতীয় তহবিল থেকে বরাদ্দ প্রতি বছর গড়ে মাত্র ৮.২ শতাংশ হারে হ্রাস পাচ্ছে, যদিও আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে বরাদ্দ ৪৩.৮ শতাংশ বেড়েছে।
জাতীয় তহবিলের প্রকল্পের মধ্যে ৮৯১টির ৫৪৯টির মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। গড়ে প্রকল্পের মেয়াদ ৬৪৮ দিন থেকে বেড়ে ১,৫১৫ দিনে দাঁড়িয়েছে। কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৪ বছরের মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লেগেছে ১৪ বছর পর্যন্ত।
আন্তর্জাতিক তহবিলের ৫১টি প্রকল্পের মধ্যে ২১টির (৪১.২%) মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে। গড় মেয়াদ বেড়ে ১,৯৫৮ দিন থেকে ২,৯৭৮ দিনে পৌঁছেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতির কারণে জাতীয় তহবিলের ৫৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব, সুশাসনের ঘাটতি ও বাস্তবায়ন সংস্থার অদক্ষতার কারণে তহবিলের অর্থ লুটপাট হয়েছে।”
প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে যে, জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় প্রতি বছর বাংলাদেশের প্রয়োজন ১২,৫০০ মিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৫–২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তহবিল মিলিয়ে গড়ে বরাদ্দ হয়েছে মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের মাত্র ০.৭ শতাংশ।
টিআইবি এই দুর্নীতি ও জবাবদিহিতার ঘাটতি কাটাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
পড়ুন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ৭ম দিনের আপিল শুনানি চলছে
আর/


