মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও এর আইনানুগ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ‘মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর গেজেট জারি করেছে। এই অধ্যাদেশটি বুধবার (২০ নভেম্বর) জারি করা হয় এবং এর মাধ্যমে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, ১৯৯৯ রহিত করা হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপনের জন্য আগের আইনের বিধান অপ্রতুল ছিল। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও প্রতিস্থাপন সহজীকরণ, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার রোধ এবং অবৈধ পাচার রোধ করার জন্য পুরোনো আইন রহিত করে একটি যুগোপযোগী অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা সমীচীন। সেজন্য সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।
এর আগে গত ১৭ জুলাই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৪তম বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই দিন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ব্রিফিংয়ে বলেন, পুরোনো আইন অনেকদিন থেকে আপডেট না হওয়ায় এই নতুন অধ্যাদেশের ফলে ‘অঙ্গ প্রতিস্থাপনটা খুব সহজ হবে’।
আগে শুধু খুবই কাছের আত্মীয় (যেমন ভাই, বোন, বাবা-মা) থেকে অঙ্গ নেওয়া গেলেও, নতুন আইনে ‘এটাকে একটু সম্প্রসারণ করা হয়েছে’। শফিকুল আলম নিশ্চিত করেন যে, আগে যারা অঙ্গ দান করতে পারতেন না (যেমন ‘ভাতিজা, ভাগিনা’), এখন তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অর্থাৎ পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, এই যুগান্তকারী আইনের ফলে কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য বাংলাদেশিদের ‘আর বিদেশে যাওয়া লাগবে না’ এবং দেশের হাসপাতালগুলোও এই উন্নতমানের সেবা প্রদান করতে পারবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

