শত বছরের পথচলার গৌরব নিয়ে আখাউড়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় তাদের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শত বছর পূর্তি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, অতিথি ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে বিদ্যালয় চত্বর পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
ডিসপ্লেতে তুলে ধরা হয় আখাউড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বিদ্যালয়ের শতবর্ষের পথচলা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাফল্য। রঙিন পোশাক, ছন্দময় উপস্থাপনা, ঐতিহাসিক অনুষঙ্গ এবং প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত থিম সং দর্শকদের এক শতাব্দী পেছনে নিয়ে যায়।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ পর্ব। স্মৃতিচারণে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবোধ, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা এবং শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অনেকেই বলেন, এই বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম। তিনি বলেন, “১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় শুধু আখাউড়ার নয়, দেশের শিক্ষা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রতিষ্ঠান যুগে যুগে দক্ষ, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করেছে।”
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল পুরস্কার বিতরণ, কৃতী শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের গান, নৃত্য ও আবৃত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
১৯২০ সালে রেলপথকে কেন্দ্র করে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যালয় শত বছর পেরিয়েও এলাকার শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী শেখ আয়ুবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, শতবর্ষ উদযাপন শুধু অতীতের স্মরণ নয়, ভবিষ্যতেও শিক্ষার মানোন্নয়নে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।
পড়ুন : আখাউড়া স্থলবন্দরে মাছ রপ্তানি বন্ধ, দেড় কোটি টাকার পণ্য আটকা


