বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল জনসমাগমের দৃশ্য দেখা গেছে। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। কারওয়ান বাজার থেকে শুরু করে শিশুমেলা পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কজুড়ে জানাজায় অংশগ্রহণ করেন অসংখ্য মানুষ।
এই জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তবে অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট একটি আনুমানিক হিসাব বের করার চেষ্টা করেছে। তাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জানাজায় অন্তত ৩২ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। বাস্তবে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার মূল মাঠে। পাশাপাশি পাশের মাঠ, মানিক মিয়া এভিনিউয়ের উভয় পাশ, খামারবাড়ি মোড় থেকে ফার্মগেট হয়ে কারওয়ান বাজার মোড় পর্যন্ত সড়ক, আবার ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি হয়ে আগারগাঁও পর্যন্ত এলাকাজুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন মানুষ।
এছাড়া চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের সড়ক এবং শিশুমেলা থেকে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত সড়কেও জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতি দেখা যায়।
গুগল ম্যাপের তথ্য অনুযায়ী, এসব সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ দশমিক ০৪ কিলোমিটার। সড়কের গড় প্রস্থ হিসাব করে মোট জায়গার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৯৬০ বর্গমিটার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল হক বলেন, সাধারণত এক বর্গমিটারে চারজন মানুষ দাঁড়াতে পারেন। তবে এ ধরনের বড় সমাবেশে প্রতি বর্গমিটারে ৬ থেকে ৮ জন মানুষ অবস্থান করতে পারেন।
এই হিসাবে শুধু সড়ক এলাকাতেই উপস্থিত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৮ থেকে ২৫ লাখ। এর সঙ্গে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার দুটি মাঠের আয়তন যোগ করলে মোট এলাকা দাঁড়ায় প্রায় ৪ লাখ বর্গমিটার।
সব মিলিয়ে প্রতি বর্গমিটারে ৬ জন হিসেবে ধরলে জানাজায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। আর প্রতি বর্গমিটারে ৮ জন হিসেবে ধরলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ লাখে।
তবে এই হিসাবের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে মেট্রো স্টেশন ও বাড়ির ছাদে জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে, যা এই অনুসন্ধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
পড়ুন: খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত
আর/


