২৭/০২/২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
21.9 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ২:১৬ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

জমির জাল দলিল লেখে টাকা ইনকাম করাই নেশাই দলিল লেখকের, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার জাল দলিল সংক্রান্ত মামলায় এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেও থেমে নেই  দলিল লেখক মিজানুর রহমান।  জেল থেকে বের হয়েই আরো বেপরোয়া ভাবে দলিল লেখার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার।

বিজ্ঞাপন

এদিকে স্থানীয়দের দাবি ওই দলিল লেখক খুঁজে খুঁজে কার  জমিনে সমস্যা আছে এবং এলাকার ভিতরে কে প্রভাবশালী কম আছে। তার জমি ক্ষমতা প্রয়োগ করে নামমাত্র টাকা দিয়ে তার পছন্দ মতো লোকের কাছে  বিক্রি করে দেন। আর এ সকল অপকর্ম দেখেও নীরব ভূমিকায় রয়েছেন উপজেলা ও জেলা রেজিস্ট্রার  কর্মকর্তারা।


ভুক্তভোগী পরিবার, মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাসার উপজেলার দক্ষিণ ধূয়াসার মৌজার সাবেক ৬১নং খতিয়ানের আক্কেল আলী কবিরাজের কাছ থেকে ১৯৬১ সালে ৩১ শতাংশ জমি কেনেন মৃত মাহফুজা বেগম। পরে বি.আর.এস খতিয়ানের ৩৬৭ নং দাগে তার নামে রেকর্ড চূড়ান্ত হয়।মাহফুজা বেগমের মৃত্যুর পর তার সন্তানরা—রেহানা বেগমসহ—ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক হন। রেহানা বেগম মারা যান ২০২১ সালে।কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, ওই মৃত রেহানা বেগমকে ‘জীবিত’ দেখিয়ে তার জায়গায় হাজির করা হয় সিমা আক্তার নামে এক নারীকে—যিনি আসলে মৃত রেহানার বড় ভাইয়ের স্ত্রী। তার বাবার নাম লতিফ খন্দকার, অথচ দলিলে লেখা হয় মৃত রেহানার বাবার নাম নাদের আলী।এই জালিয়াতির মাধ্যমে ০১.৬৬ শতাংশসহ মোট ২৪.৪৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করা হয় মো. বাবুল হাওলাদার ও কোহিনুর বেগম নামে দুই ব্যক্তির।অথচ সেই মৃত ব্যক্তিকেই জীবিত দেখিয়ে সুমি নামের এক নারীকে জীবিত দেখিয়ে ২০২৪ সালে একটি জমির জাল দলিল প্রস্তুত করেন দলিল লেখক মিজানুর রহমান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এদিকে ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে ভুক্তভোগী পরিবার ২০২৪ সালে মাদারীপুর আদালতে  একটি জাল দলিল মামলা দায়ের করে। মামলার পর পুলিশ মিজানুর রহমানকে আটক করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তিনি প্রায় এক মাস কারাভোগ করে জামিনে মুক্ত হন।


এদিকে জমি গ্রহীতা বাবুল আক্তার বলেন, এই জমি আমরা কিনতে চাইনি। দলিল লেখক মিজান আমাদের সবকিছু বলছে ঠিক আছে। এমনকি প্রত্যেক দাতা ও কাগজপত্র ঠিক আছে কোন সমস্যা নাই। তার কথামতো আমরা জমি কিনেছি, পরে দেখি যে জমিটার একজন দাতা রেহেনা বেগম তিনি মারা গেছেন ২১ সালে। দলিল লেখক মিজান কৌশলে রেহনা বেগম নাম দিয়ে অন্য একজনকে দাঁড় করাইছে। পরে দাতার একাংশ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে জাল দলিলের  জন্য। দলিল লেখক মিজান আমাদের কাছে সকল তথ্য গোপন রেখে এই কাজটা করেছে। আমি চাই আমরা  মতো আর কেউ দলিল লেখক মিজানের দ্বারা প্রতারণার শিকার যেন না হয়। এ কারণে মিজানের কঠোর শাস্তি দাবী জানাই প্রশাসনের কাছে।


তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জেল থেকে বের হওয়ার পর মিজানুর রহমান আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন এবং আগের মতোই দলিল লেখার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

এদিকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছেন—একজন মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনের মতো গুরুতর অপরাধ কীভাবে সংঘটিত হলো এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি কোথায় ছিল?
ভুক্তভোগী আবদুস সামাদ ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত দলিল লেখক মিজানুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও তার দলিল লেখার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে গেলে অভিযুক্ত দলিল লেখক মিজানুর রহমান বলেন, আপনারা কিছু করতে পারলে করেন আমার এতে কিছুই হবে না। আমি প্রশাসন ম্যানেজ করেই এগুলো করতেছি।


এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার আমির হামজা বলেন,“এই বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে এত বড় ধরনের অনিয়ম কীভাবে হয়েছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় ওই দলিল রেজিস্ট্রি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

পড়ুন- ‎গাইবান্ধায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু

দেখুন- ইরানের পক্ষে কঠোর অবস্থান সৌদি আরবের, হতাশা বাড়লো ট্রাম্পের?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন