০১/০৩/২০২৬, ০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
20.4 C
Dhaka
০১/০৩/২০২৬, ০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

রাউৎগাঁও জামে মসজিদের মুয়াজ্জিনের রাজকীয় বিদায়

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী রাউৎগাঁও জামে মসজিদে এক আবেগঘন ও স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। সুদীর্ঘ অর্ধশত বছর ধরে নিষ্ঠা, ইখলাস ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মুয়াজ্জিন হিসেবে আজানের খেদমত করা হাফিজ বাছিকুর রহমানের অবসর উপলক্ষে তাঁকে দেওয়া হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা।

বিজ্ঞাপন

রাউৎগাঁও যুবসমাজ ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুমা মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক অনন্য ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের পরিচিত আজানের কণ্ঠকে বিদায় জানাতে মুসল্লি, ধর্মপ্রাণ মানুষ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, হুজুরের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুলাউড়া উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও টিম জার্নালিস্ট’স-এর উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক এম. মুক্তাদির হোসেন, ৮নং রাউৎগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মারুফ হোসেন নাজিম, সাবেক ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বেলাল, রাউৎগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান খয়াজ, মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল আজিজ, ইমাম হাফিজ তাজুল ইসলাম, বর্তমান মুয়াজ্জিন হাফিজ রিয়াদুর রহমান ফাহিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ আব্দুল হামিদ আসাদ, জংশন কুলাউড়ার পরিচালক তৌফিকুর রহমান তাহের, ফ্রেন্ডস ক্লাব রাউৎগাঁও-এর সভাপতি মুস্তফা ইবনে মিরাজসহ আরও অনেকে।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, হাফিজ বাছিকুর রহমানের আজান শুধু নামাজের আহ্বান ছিল না—বরং তা ছিল সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও ঈমানি চেতনার এক জীবন্ত বার্তা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর কণ্ঠে আজান শুনে মসজিদমুখী হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সময়ের সীমাবদ্ধতা—কোনো কিছুই তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এ কারণে তিনি রাউৎগাঁও জামে মসজিদের ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছেন।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে রাউৎগাঁও যুবসমাজের পক্ষ থেকে বিদায়ী মুয়াজ্জিন হাফিজ বাছিকুর রহমানকে সম্মাননা ক্রেস্ট, উপহার সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। সম্মাননা গ্রহণকালে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি উপস্থিত সকলের জন্য দোয়া করেন এবং দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, সম্মান ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বিনয়ী বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠান শেষে ফুলেল সজ্জিত একটি গাড়ি ও অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহরের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে নিজ বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। পুরো পথজুড়ে এলাকাবাসী দাঁড়িয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। এই ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় অনুষ্ঠান পুরো এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী ও স্মরণীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে।

দীর্ঘ অর্ধশত বছরের ধর্মীয় খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ এই রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

লেখক- মাহফুজুর রহমান মাহী

পড়ুন- ফের দুঃখ প্রকাশ আমির হামজার

দেখুন- বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক সভায় যা বললেন শফিক রেহমান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন